ফুলগাজী প্রতিনিধি->>

ফুলগাজী উপজেলার ৫১ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স আছে, কিন্তু চালক নেই। চালক না থাকায় দীর্ঘ তিন বছর তালাবদ্ধ গ্যারেজে অলস পড়ে আছে অত্যাধুনিক সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি। ফলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীসহ মুমূর্ষু রোগীদের পরিবহনের কাজে আসছে না অ্যাম্বুলেন্সটি। দীর্ঘদিন গ্যারেজে পড়ে থাকায় এসিসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হবার উপক্রম হলেও চালক নিয়োগ দেয়া হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সটি (চট্ট মেট্টো-ছ ৭১ ০২৪৮) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু চালক না থাকায় গ্যারেজে তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে আছে সেটি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হক বলেন, চালক স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেয়ার পর আর নিয়োগ দেয়া হয় নি। ফলে রোগী পরিবহনে দেড় লক্ষাধিক মানুষের এই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী রোগী পরিবহনে সমস্যা চরমে পৌঁছেছে। বর্তমানে আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএফপিএইচও) গাড়ি চালকের মাধ্যমে সেবা দেয়া হলেও তা অপ্রতুল। চালক স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেয়ার পর দীর্ঘ তিন বছর ধরে হাসপাতালের তালাবদ্ধ গ্যারেজে পড়ে থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

মুন্সীরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তারালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আজাদ চৌধুরী বলেন, আমার বৃদ্ধ মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২ ঘন্টা অপেক্ষার পরে ফেনী থেকে এ্যাম্বুলেন্স এনে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। অথচ বাড়ীর পাশের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে পারি নি। এটা দুঃখজনক। চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে এ অঞ্চলের গরিব-অসহায় রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে ঢাকা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে ভাড়া করা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য কোনো যানবাহনের মাধ্যমে নিয়ে যেতে হয়।

উপজেলার ৬টি ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল মুন্সীরহাটস্থ ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অ্যাম্বুলেন্সটি চালু না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মুমূর্ষু রোগীরা। তাই উপজেলা থেকে রোগীদের ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা কুমিল্লা মেডিকেলে রোগী আনা নেয়ার ক্ষেত্রে ফেনী শহর থেকে এ্যাম্বুলেন্স এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়। এতে বিত্তশালী পরিবারগুলোর সামর্থ্য থাকলেও গরীব অসহায় মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।

Sharing is caring!