আদালত প্রতিবেদক->>

দাগনভূঁঞার সিন্দুরপুরে গণধর্ষণের দায় স্বীকার করে আদালতে এক আসামীর জবানবন্দি প্রদান করেছে। মঙ্গলবার ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবদুল্লাহ খানের আদালতে আসামী মেহেদী হাসান (২৩) ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান দাগনভূঁঞা উপজেলার সিন্দুরপুর গ্রামের মোস্তফা নয়নের ছেলে।

আদালত সূত্র জানায়, দাগনভূঁঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের সাদেকপুর গ্রামে গত রোববার রাতে এক নারীকে গণধর্ষণ করা হয়। আসামী মেহেদী হাসান ওই ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি আদালতকে জানান, মোবারক হোসেন হৃদয়, মেহেদী হাসান, ওমর ফারুকসহ তারা চারজন ওই নারীকে ধর্ষণ করেছে।

পুলিশ জানায়, গত রোববার সন্ধ্যায় একজন স্বামী পরিত্যাক্তা নারী (৩৫) তাঁর বোনের বাড়ী থেকে উপজেলার সিন্দুরপুর হয়ে নিজ বাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যায় পথিমধ্যে সিন্দুরপুর বাজারে ঢোকার পথে মোবারক হোসেন হৃদয় নামে এক যুবক পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে কথা আছে বলে ডাক দেয়। তখন সেখানে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা দাঁড়ানো ছিল। ওই নারীর সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে অটোরিকশার পাশে যাওয়া মাত্রই তাকে (নারী) ধাক্কা দিয়ে জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে গ্রামের ছিদ্দিক সওদাগরের বাড়ীর পেছনে পুকুর পাড়ের বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে মোবারক হোসেন হৃদয়, মেহেদী হাসান ও ওমর ফারুকসহ কয়েকজন ওই নারীকে ধর্ষণ করে। এ সময় ওই নারীর কাছে থাকা টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। কাউকে ঘটনা জানালে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে ধর্ষণকারীরা চলে যায়।

ওই নারী বিষয়টি তার স্বজনদের জানানো হলে তারা স্থানীয় সিন্দুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নূর নবীকে বিষয়টি অবহিত করেন। চেয়ারম্যানের পরামর্শে ওই নারী বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে চারজনের নাম উল্লেখ ও আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে দাগনভূঁঞা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মেহেদী হাসান নামে একজন আসামীকে গ্রেপ্তার করেন।

দাগনভূঁঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, পুলিশ অভিযান চালিয়ে মেহেদী হাসান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার ফেনীর আদালতে মেহেদী হাসান ওই ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। পরে তাকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

Sharing is caring!