বিশেষ প্রতিনিধি->>

পরশুরামে নির্বাচন মানেই হয়ে উঠেছিল বিনা ভোটে জয়। এ উপজেলায় সবশেষ সব জনপ্রতিনিধিই ভোট ছাড়া নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের কোনো নির্বাচনেই ভোট হয়নি।

প্রায় ১০ বছর পর এবারের ইউপি নির্বাচনে ভেঙেছে সেই ধারা। দেশে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে ২৮ নভেম্বর পরশুরামের তিনটিতে ভোট হবে। এর মধ্যে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ১০ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হলেও অন্যগুলোতে ভোট হবে।

তবে প্রার্থীদের অভিযোগ, অনেকেই অব্যাহত হুমকি-ধমকির মধ্যে নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন। সব প্রার্থী আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের হলেও নিজের দলের সদস্যরাই দিচ্ছেন হুমকি।

প্রচারে বাধা, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোসহ প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে এরই মধ্যে দুই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাধারণ সদস্য পদের পাঁচ প্রার্থী নিরাপত্তা চেয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

গত ১৭ ও ১৮ নভেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এসব অভিযোগ দেন প্রার্থীরা।

অভিযোগকারী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বহিষ্কৃত সহসভাপতি ও বক্সমাহমুদ ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী (আনারস) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য ও মির্জানগর ইউপির আলি আকবর ভূঁইয়া (আনারস)।

এ ছাড়া চিথলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী শেখ আহাম্মদ খোকা (মোরগ), সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (ফুটবল), ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল (মোরগ), ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী ও ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন (ফুটবল) এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য প্রার্থী মো. ওসমান (মোরগ) নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন।

প্রার্থীরা তাদের অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকেই প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের প্রচার ও গণসংযোগে বাধা দিয়ে আসছেন। কর্মী-সমর্থকদের এলাকা ছাড়া এবং হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানিসহ নানা হুমকি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন।

চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী যুবলীগ নেতা মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, তিনি সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই বর্তমান ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন মোল্লা ও তার কর্মী-সমর্থকরা সরে যেতে বারবার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তিনি নির্বাচনি প্রচারে বের হলেই কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে মারধর, ভয়ভীতি দেখানোসহ তাদেরকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেয়া হচ্ছে।

ইউপি সদস্য প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ইউপি সদস্য পদে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেয়া নিয়ে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন।

চিথলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন অবশ্য বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচনের প্রার্থীদের কাউকে প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে না। ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শনের বিষয়টিও সঠিক নয়।

‘নির্বাচনে হেরে যাবার ভয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নিজেরাই নির্বাচনি মাঠ অস্থিতিশীল করতে নানা কুৎসা রটাচ্ছেন।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, পরশুরাম উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হলেও সদস্য পদ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

‘এর পরও কয়েকটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী হয়েছেন। কাউকে প্রচারে বাধা ও ভয়ভীতি দেখানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে বিভিন্ন অভিযোগ এনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ সাতজন তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ প্রার্থীদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) চিঠি দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরশুরাম থানার ওসি খালেদ হোসেন দেওয়ান বলেন, নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পেলেই তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

Sharing is caring!