দাগনভূঞা প্রতিনিধি->>

দাগনভূঞার দরবেশের হাটে নিবন্ধন ব্যতীত এলোপ্যাথি ঔষধ সেবনের পরামর্শ দেওয়ায় ভূয়া চিকিৎসককে অর্থদন্ড ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন হেলথকেয়ার সেন্টার সিলগালা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) গাজালা পারভীন রুহি নিবন্ধন ব্যতীত এলোপ্যাথি ঔষধ সেবনের পরামর্শ দেওয়াসহ নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দেওয়ার অপরাধে জাকির হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন। পরে হেলথকেয়ার সেন্টারটি সীলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দরবেশের হাট হেলথকেয়ার সেন্টারে থেকে মাইকিং করে ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানিসহ বিভিন্ন জটিল রোগের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক করা হয় বলে প্রচার করা হতো। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোগীতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দরবেশের হাট হেলথকেয়ার সেন্টারের কোন লাইসেন্স কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন দেখাতে পরে নি। ভ্রাম্যমান আদালত চলাকালে রোগীদের প্রেসক্রিপসন দেখে উদঘাটিত হয় অভিযুক্ত জাকির হোসেন প্রেসক্রিপসনে এলোপ্যাথি ঔষধ সেবনের নির্দেশনা দিচ্ছেন ও নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে স্বাক্ষর ও সীল ব্যবহার করছেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে অভিযোগ স্বীকার করে নেওয়ায় ও নিবন্ধন ব্যতীত এলোপ্যাথি ঔষধ সেবনের পরামর্শ দেওয়াসহ নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দেওয়ার অপরাধে জাকির হোসেনকে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ এর ২২ (১) ধারা লংঘনের অপরাধে ২২ (২) ধারা অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। একই সাথে অনুমোদন ব্যতীত হেলথকেয়ার সেন্টার পরিচালনা করায় দরবেশের হাট হেলথকেয়ার সেন্টারের উপস্থিত এসিস্ট্যান্ট মোবাশ্বের হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫৩ ধারা লংঘনের অপরাধে একই ধারায় ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে দুইমাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। এসময় হেলথকেয়ার সেন্টারটি সীলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. জুলফিকার হাসান ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!