ঢাকা অফিস->>

ফেনীর আলোচিত আল আমিন হত্যাকাণ্ডের সূত্র ধরে মিললো প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েনে এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা। সেই তরুণী প্রেমিকার প্রতিশোধ নিতেই বন্ধুর হাতে খুন হন আল-আমিন নামের ওই যুবক।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিআইডি কার্যালয়ে এমন ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ফেনীর আলোচিত আল-আমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডায়মন্ড নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার রাতে দিনাজপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ফেনী পৌরসভার পশ্চিম বিজয়সিংহ লুদ্দারপাড় গ্রামে একটি টিনশেড কলোনিতে আল আমিন নামে একজন ফেরিওয়ালা খুন হন। ওই ঘটনার তদন্তে জানা যায়- আল আমিন, তার বড় ভাই তোফাজ্জল হোসেন (২৭) ও আসামি ডায়মন্ড (২৮) ওই টিনশেড কলোনির একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। তারা তিনজনই ফেনী শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় হরেক রকমের জিনিসপত্র বিক্রি করতেন (ফেরিওয়ালা)।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, আসামি ডায়মন্ডের সঙ্গে নিজ গ্রামের পপি মন্ডল নামে এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির জেরে সম্পর্ক ভেঙে যায়। কিছুদিন পর পপি মন্ডল বিষপানে আত্মহত্যা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, পপির আত্মহত্যার পর ডায়মন্ড জানতে পারে আল আমিন সুকৌশলে ডায়মন্ডের ফোন ব্যবহার করে পপি মন্ডলকে বলেছে, ‘ডায়মন্ড তাকে ভালবাসে না।’ যার পরিপ্রেক্ষিতেই পপি আত্মহত্যা করেছে। ডায়মন্ড আরও জানতে পারে নিহত আল আমিন তার ৩ সহযোগী রুবেল মন্ডল, হাসিবুর রহমান, আবু বক্করকে নিয়ে কিছুদিন আগে পপির ঘরে ঢুকে তাকে যৌন নিপীড়ন করে। এর ফলেই সে আত্মহত্যা করে।

মুক্তা ধর বলেন, ডায়মন্ড এসব ঘটনা জানতে পেরে আল আমিনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত ৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে সে ছুরি নিয়ে আল আমিনের ওপর হামলা করে এবং তার বুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় আল আমিনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আল-আমিনের বড় ভাই তোফাজ্জলকেও আসামি ডায়মন্ড ছুরিকাঘাত করে। তাদের চিৎকারে কলোনির অন্যান্য বাসিন্দারা এগিয়ে এলে ডায়মন্ড পালিয়ে যায়। পরে আহত আল আমিন মারা যায়।

ঘটনা তদন্তের সূত্র ধরে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া এলাকা থেকে ডায়মন্ডকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় সিআইডি।

Sharing is caring!