আদালত প্রতিবেদক->>

প্রথম ফেনীতে নিউজ প্রকাশের পর দাগনভূঁঞার দাদনার খালের পরিবেশ দূষণ ও খাল দখলের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য ফেনীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকে নির্দেশ প্রদান করেছেন ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন। আগামী ৪ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, ফেনীর স্থানীয় অনলাইন প্রথম ফেনী পত্রিকায় গত ৩০ আগষ্ট “দখলে-দূষণে একাকার দাগনভূঁঞার দাদনার খাল” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে পড়লে বৃহস্পতিবার আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

আদালত সুত্র জানায়, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট ফেনী কর্তৃক তদন্তের আদেশে উল্লেখ করা হয় উক্ত সংবাদ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর ধারা ৬ঙ ও ১৫ ধারার টেবিল ৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য ও বিচারযোগ্য অপরাধ মর্মে প্রতীয়মান হয়। এছাড়া দাদনার খাল একটি সরকারী খাল হওয়ায় উক্ত খালের জমিও সরকারী।

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ ও পরিবেশ আদালত আইন, ২০১০ প্রনয়ণ করে পরিবেশ সংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে বিচার নিশ্চিত করার জন্য স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেটকে ক্ষমতা প্রদান করেন। জনজীবনের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত ও পরিবেশ সংক্রান্ত অপরাধ নির্মুল করার লক্ষ্যে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন মর্মে এই আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, প্রায় দুইশত বছরের পুরোনো ও অতি প্রয়োজনীয় দাগনভূঁঞা উপজেলার দাদনার খাল দখলে ও দূষণে বিলীন হওয়ার পথে। উক্ত খাল ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হলেও ৩ কিলোমিটার দখল ও দূষণের মধ্যে রয়েছে। দাগনভূঁঞা পৌর এলাকার প্রায় দুইশত দখলদার ব্যক্তি ও গোষ্ঠি খালকে দখল করে দোকান ও বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এছাড়া দাগনভূঁঞা বাজারের মাংস ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন গরু জবাই করে তার বর্জ্য ও ময়লা দাদনার খালে ফেলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এছাড়া দাদনার খালে বিভিন্ন ধরনের স্থাপন নির্মাণ করায় ও খালের জমি দখল করায় খাল সংকুচিত হওয়ায় এলাকার স্বাভাবিক পানি নিস্কাশন ও প্রবাহ ব্যাপকভাবে ব্যহৃত হচ্ছে।

উক্ত আদেশ মোতাবেক তদন্তকারী কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ঘটনার সাথে সংশি¬ষ্ট আসামীদের চিহিৃতকরণ ও দাদনার খালের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষার উদ্দেশ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনসহ অন্য কোন আইনের অপরাধ থাকলে তাও উদঘাটনসহ তদন্ত করার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের স্টেনোটাইপিস্ট কাম কম্পিউটার অপারেটর রেজাউল করিম মজুমদার জানান, আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয় উপ-পরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনীকে পরিদর্শকের নিম্নে নয় এরূপ কর্মকর্তা নিয়োগপূর্বক তদন্ত করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। এছাড়া তদন্ত কাজে দাগনভূঁঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দাগনভূঁঞা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আইনগত ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়।

প্রসঙ্গত, ফেনীর জনপ্রিয় অনলাইন প্রথম ফেনীতে গত ৩০ আগস্ট দাদনার খালের উপর প্রকাশিত নিউজটি ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৭ হাজারেরও বেশি পাঠক পড়েছেন।

Sharing is caring!