দাগনভূঞা প্রতিনিধি->>

দাগনভূঞায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি রোগীর স্বজনদের হামলায় মেডিকেল অফিসার সাখাওয়াত হোসেনসহ চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বিভাগে এঘটনা ঘটে। হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বিভাগে একজন প্রসূতি রোগীর ডেলিভারি সম্পন্ন হয়। পরে তাকে অপারেশন থিয়েটার থেকে অবজারভেশন কক্ষে রাখা হয়। এর ঘণ্টা খানেক পরে প্রসুতি ওয়াশরুমে গেলে সেখোনে তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যায়। এসময় প্রসুতির স্বজনরা রোগীকে জীন-ভূতে ধরছে বলে হাসপাতাল থেকে ঝাড়-ফুঁক করার জন্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক সাখাওয়াত হোসেন ওই কক্ষে যেয়ে প্রসুতিকে এ অবস্থা হাসপাতাল থেকে নিয়ে যেতে বাধা প্রদান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রসুতির স্বজনরা চিকিৎসক সাখাওয়াত হোসেনের উপর হামলা চালায়। তাকে বাঁচাতে নার্স ও ওয়ার্ড বয় এগিয়ে এলে হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রোগীর একজন স্বজন জানান, ‘প্রসুতিকে কথাবার্তা অগোছালো ছিলো। তাকে সত্যি সত্যিই জ্বীনে ধরেছে। আপনারা প্রসুতির সাথে কথা বললেই বুঝতে পারবেন।’

দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোবাইয়েত বিন করিম জানান, প্রসুতির স্বজনরা আজগবি তথ্য দিয়ে মেডিকেল অফিসার সাখাওয়াত হোসেন, ওয়ার্ড বয় মো. রিয়াজ জিয়াউর রহমান ও হাসপাতালে আয়া পলির উপর হামলা করে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। হামলার বিষয়ে থানায় অবগত করা হলে পুলিশ প্রসুতির দুই স্বজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দাগনভূঞা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পার্থ প্রতিম দেব জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার ও কর্মচারীদের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ প্রসুতির স্বামী আনোয়ার হোসেন ও তার দুই ভাই মোহাম্মদ ইকবাল, মোহাম্মদ বেলালকে আটক করেছে। হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আটককৃতদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।

Sharing is caring!