এমাম হোসেন এমাম->>
ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথের নরসিংদী পৌর এলাকার তরোয়া নামক স্থানে গত বুধবার ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত কাজী নজরুল ইসলাম বাবর (২১) এবং মোর্শেদ খানের (১৭) গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। গত বৃহস্পতিবার দাগনভূঞার রামনগর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের ওমেদ আলী মিয়াজী বাড়িতে গেলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের দেখা মেলে। নিহত দুজন ছিলেন মামাতো-ফুফাতো ভাই এবং একই বাড়ির বাসিন্দা।

নিহত নজরুল ইসলাম বাবর ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান। তার বাবা মারা গেছেন অনেক আগে। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন পৈতৃক বাড়িতে মা মারজাহান আক্তার হিরো। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আত্মীয়স্বজন দূর-দূরান্ত থেকে যারা আসছেন তাদের জড়িয়ে ছেলের নাম মুখে নিয়ে কান্না ভেঙে পড়ছেন তিনি। সেই সঙ্গে কান্না করছেন স্বজনেরাও।

নিহতের মামা পিন্টু খান জানান, তাঁর ভাগিনা নজরুল ইসলাম বাবর কয়েক দিন আগে নরসিংদীর স্থানীয় একটি লুঙ্গি তৈরির কারখানায় কাজে যোগদান করেছেন। তার সঙ্গে কাজ করত তার মামাতো ভাই মোর্শেদ খান। গত বুধবার বিকেলে তারা নরসিংদী পৌর এলাকার তরোয়া নামক স্থানে রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। ওই মুহূর্তে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা আন্তনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার দিকে যাওয়ার পথে তরোয়া এলাকা অতিক্রম করার সময় ট্রেনটিতে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে তাঁর ভাগিনা ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন।

নিহত মোর্শেদ খানের ঘরেও চলছে শোকের মাতম। চারদিকে শুধু কান্না আর কান্না। মোর্শেদ খান দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন সবার ছোট। তার মৃত্যুতে দুই বোনকে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। এ ছাড়া মা ও বাবা ঘরের মধ্যে আলাদা স্থানে বসে সন্তানের জন্য কান্না করছেন। সান্ত্বনা দিচ্ছে বাড়ির আশপাশের লোকজন ও আত্মীয়স্বজন।

মোর্শেদের বাবা মো. হানিফ গাজীপুরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করেন। ছেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

Sharing is caring!