বিশেষ প্রতিবেদক->>

পাহাড়ি ঢলের পানিতে ফেনীতে প্রতি বছরই ভেসে যায় দফায় দফায় ঘুরে দাঁড়ানো মানুষের স্বপ্ন। অথচ প্রায় তিন লাখ মানুষের দুর্ভোগ আর ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চাবিকাঠি নতুন বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাবনা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ে আছে গত তিন বছর ধরে।

ফলে দফায় দফায় ক্ষতির মুখে পড়ছে এখানকার মানুষ। আর এ ক্ষতি বন্ধে ১৬৭ কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় কমিয়ে ১৩৫ কোটি টাকায় মুহুরী কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণে ১২৩ কিলোমিটার বাঁধের কাজ শেষ হয় ২০১১ সালে।

নদীর দু’তীরে ৩০ মিটার দুরে বাঁধ দেওয়ার কথা থাকলেও ব্যয় কমাতে তীরেই দেওয়া হয় অকার্যকর বাঁধ। কোনো সুফল না থাকলেও প্রতি বছরই চলে বাঁধ ভাঙা-গড়ার টাকার খেলা। ফলে এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এ জনপদের মানুষ।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দাবি, মানুষের ক্ষতির তুলনায় সরকারি সাহায্য যৎসামান্য। ফেনীর পরশুরাম পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সাজেল বলেন, আমরা যে সাহায্য সহযোগিতা দেয় সেটা মানুষের ১০০ ভাগের এক ভাগও হয় না। আমরা চাই স্থায়ী সমাধান।

এ অবস্থায় নদী খনন, ভূমি অধিগ্রহণ, তীর সম্প্রসারণ করে নতুন বাঁধসহ ৭৩১ টাকার মুহুরী কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসনে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ২০১৯ সালে একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহির উদ্দিনের দাবি, এটি বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের দুঃখ ঘুচবে। তিনি বলেন, এটির স্থায়ী সমাধানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ৭৩১ কোটি টাকা ব্যায়ের একটি প্রকল্প দাখিল করেছি। এটি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দাখিল হয়েছে।

গত ১০ বছরের মুহুরী কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙন মেরামত ও সংস্কারে ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি টাকারও বেশি।

Sharing is caring!