সোনাগাজী প্রতিনিধি->>

সোনাগাজী সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার প্রনজিত কুমার দত্তের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগে বদলি হওয়ার তিন বছর পর আবারো সেই পদে বদলি হয়ে আসায় স্থানীয় এলাকায় মিশ্র পতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ক্যাশিয়ার প্রণজিত কুমার দত্ত ২০১৮ইং সালে সোনাগাজীতে দায়িত্বরত অবস্থায় বেশ কিছু আর্থিক অনিয়মের ঘটনা স্থানীয় এলাকায় জানাজানি হওয়ার প্রেক্ষিতে তৎকালীন সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: নুরুল আলম ক্যাশিয়ার প্রণজিত কুমার দত্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় স্নারক নং-প্রশা/২০১৮এর মাধ্যেমে তিন দিনের মধ্যে তার নিকট ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলেন এবং ফেনী তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা: হাসান শাহরিয়ারকে স্নারক নং-২৯১, তারিখ- ০৯ই সেপ্টেম্বার ২০১৮ইং এর মাধ্যেমে অভিযোগ করেন যে, সোনাগাজী সরকারী হাসপাতালের ক্যাশিয়ার প্রণজিত কুমার দত্ত হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদিসহ অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। বিভিন্ন সময় সিএইচসিপি সহ অন্যান্য কর্মচারীদের টাকা না দিয়ে স্বাক্ষর দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায় এবং এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীর আদায়কৃত ভাড়া সরকারী কোষাঘারে জমা না দিয়ে নিজের কাছে গচ্ছিত রাখেন।

এমতাবস্থায় তাকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে বদলী করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১০ই সেপ্টেম্বার ২০১৮ইং তারিখে ফেনী তৎকালীন সির্ভিল সার্জন ডা: হাসান শাহরিয়ার কতৃর্ক প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ক্যাশিয়ার প্রণজিত কুমার দত্তকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে দাগনভুঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলী করা হয়। এমতাবস্থায় গত ২৯মার্চ ২০২১ইং তারিখে অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার প্রণজিত কুমার দত্তকে বর্তমান দায়িত্বরত পরিচালক স্বাস্থ্য, চট্রগ্রাম বিভাগ ডা: হাসান শাহরিয়ার স্বাক্ষরীত আদেশে আবারো সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলী হয়ে আসায় স্থানীয় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

অভিযুক্ত প্রণজিত কুমার দত্ত জানান, আমার বিরুদ্ধে পূর্বে আনিত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে সমাধান হয়ে যাওয়ায়, আমি আবারো বদলীর আদেশ পেয়েছি। তাছাড়া বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে যে কোনো এলাকায় চাকুরী করার আমার অধিকার রয়েছে।

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: উৎপল দাম জানান, বদলীর বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপর্ক্ষের অফিস আদেশ, আমার করার কিছু নেই।

অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার আবারো বদলীর বিষয়ে বক্তব্য জানতে বর্তমান দায়িত্বরত পরিচালক স্বাস্থ্য, চট্রগ্রাম বিভাগ ডা: হাসান শাহরিয়ারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও কল রিসিভ না করায় এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Sharing is caring!