বিশেষ প্রতিবেদক->>

ফেনীতে করোনাভাইরাসে ২৪ ঘন্টায় ১২০ জন নতুন শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় জেলার ৪৯২টি নমুনা পরীক্ষা করে আরও ১৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় সংক্রমণের হার ২৪.৩৯%। নতুন ১২০ জনসহ শনাক্তকৃত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬৪১ জন। শুক্রবার বিকেলে এমন তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য বিভাগের একই সূত্র জানায়, নতুন শনাক্তকৃতদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৪ জন, দাগনভূইয়া ২৪ জন, ছাগলনাইয়ায় ২১ জন, পরশুরামে ২০ জন, সোনাগাজীতে ৭ জন ও ফুলগাজীতে ৪ জন রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও দু’জন মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে কোভিড পজেটিভ রোগী হয়ে ভর্তি রয়েছে ৯৯ জন রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ৩৯ জন, দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন, ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৬ জন, পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। করোনা পজেটিভ ও উপসর্গে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ৫ জন ও ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ জন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনা পরীক্ষার জন্য ফেনীতে ৩২ হাজার ৩৪৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজিজেস (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মহিপাল বক্ষব্যাধী হাসপাতালের জীন এক্সপার্ট মেশিনে পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে বিদেশগামী সহ ৩২ হাজার ৮৪০ জনের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী জানান, জেলায় শনাক্তের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে তিন গুণের বেশি। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেনারেল হাসপাতালে কোভিড ওয়ার্ডে ৩০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছেন ১১০ জন। আরটি-পিসিআর পজেটিভ কভিড ৩৫ জন ও আরটি-পিসিআর নিগেটিভ কভিড ৭৫ জন রয়েছে। ভর্তিরতদের মধ্যে অক্সিজেন সেবা পাচ্ছেন ১১০ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন রোগী ২৫ জন ভর্তি হয়েছেন। আইসিইউ ও এইচডিইউতে ভর্তি ১৩ জন। শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে আরটিপি-সিআর পজেটিভ এক জন রয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. রফিক উস সালেহীন জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ হাজার ১২৬ জন। নতুন করে ৫১ জন সহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ২১৯ জন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় কর্মরত সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেনসহ এ পর্যন্ত ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ফেনীতে গত বছরের ১৬ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। কোভিড-১৯ শনাক্ত’র সংখ্যা ১ থেকে ৫শ ছাড়াতে সময় লাগে ৭৬ দিন। পরের ৫শ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে সময় লাগে ২৬ দিন। আর পরবর্তী ৫শ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে লাগে ৩৫ দিন সময়। চার মাসের মাথায় সংক্রমিতের সংখ্যা ১ হাজার ৫শ অতিক্রম করে।

সাত মাসের মাথায় সংক্রমিতের সংখ্যা ২ হাজার ও সাড়ে ১১ মাসের মাথায় সংক্রামিতের সংখ্যা ২ হাজার ৫শ অতিক্রম করে। পরবর্তী ৫শ শনাক্ত হয়ে মাত্র ১৫ দিন সময় লেগেছে। পরবর্তী ৫শ শনাক্ত হতে সময় লেগেছে ২৮ দিন।

কোভিড-১৯ শনাক্ত’র ১৪ মাসের মাথায় সংক্রামিতের সংখ্যা ৪ হাজার অতিক্রম করেছে। সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার হতে (৫শ’) শনাক্ত হতে সময় লেগেছে ৪০ দিন। চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার শনাক্ত হতে সময় লেগেছে ১৩ দিন। সাড়ে চার হাজার থেকে ৫ হাজার শনাক্ত হতে সময় লেগেছে ৭ দিন। ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার শনাক্ত হতে সময় লেগেছে ৫ দিন। সাড়ে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার শনাক্ত হতে সময় লেগেছে ৩ দিন। কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়ার ১৫ মাসে সংক্রামিতের সংখ্যা সাড়ে ৬ হাজার অতিক্রম করেছে। সাড়ে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার শনাক্ত হতে সময় লেগেছে ৮ দিন। ৭ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার শনাক্ত হতে সময় লেগেছে ৩ দিন।

Sharing is caring!