ছাগলনাইয়া প্রতিনিধি->>

ছাগলনাইয়ায় পালিত কন্যাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার মধ্যরাতে পৌরসভাধীন পূর্ব ছাগলনাইয়া গ্রাম থেকে অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ। গৃহবন্দি অবস্থায় কয়েক দিনের ক্ষুধার্ত কিশেরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উদ্ধারকৃত কিশোরী পুলিশকে জানায়, তার বয়স যখন দুই বছর তখন তাকে দত্তক আনেন পালক বাবা ও মা। কিশোরী যখন বড় হচ্ছিল তখন পালিত বাবা তার স্ত্রীকে সন্তান না হবার অযুহাতে তালাক দিয়ে দেন। একপর্যায়ে তার ঘৃণ্য যৌন লালসা চাহিদা মিটাতে দত্তক কিশোরীকে জোরপূর্বক যৌন হয়রানির শুরু করে। একসময়ে হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে না পেরে কিশোরীকে গৃহবন্দি রাখে বাবা। এসময় তাকে কোন খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিশোরী ক্ষুধার জ্বালায় যখন কাতরাচ্ছিল তখন তার পালক বাবা তাকে জোরপূর্বক বন্দি করে যৌন সম্পর্ক করার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। তাকে ধর্ষণ করতে না পেরে তাকে তার ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালায়। এর পরে তাকে একটি রুমের মধ্যে আটকে রাখা হয়। ক্ষুধার জ্বালায় দুর্বল হয়ে পড়া অসহায় কিশোরী কোন উপায়ন্তর না দেখে ছাগলনাইয়া থানায় ফোন করে।

ছাগলনাইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে নির্যাতিত কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কয়েক দিনের ক্ষুধার্ত কিশেরীকে থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় ওসির নিজের বাসায় রান্না করা খাবার খাওয়ানো হয়।

ওসি আরও জানায়, এতিম কিশোরী তার পালক বাবা জোরপূর্বক যৌন হয়রানি করার উদ্দেশ্যে নিজ গৃহে বন্দি করে রেখে কিশোরীকে কি ধরণের শারীরিক ও অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে সেইসব ঘটনার বর্ণনা পুলিশের কাছে তুলে ধরেন। পরে কিশোরীর জবানবন্দি রেকর্ড মূলে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আসামীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভিকটিম কিশোরীর পরবর্তী আবাসন ব্যবস্থা আদালত নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছেন ওসি।

Sharing is caring!