বিশেষ প্রতিবেদক->>

ফেনীতে হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগী। প্রতিদিরিই আগের রিনে শনান্তের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বুধবার জেলায় সর্বোচ্চ ২১৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। ৫১০টি নমুনা পরীক্ষায় এ রোগী শনাক্ত হয়। এদিন জেলায় করোনায় ২ জন ও উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলায় প্রতিদিন হাসপাতাল গুলোতে করোনী পরীক্ষার জন্য ভিড় করছে রোগী। রোগীদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা। হাসপাতাল গুলোতে বাড়ছে অক্সিজেনের চাহিদা। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ফেনী জেনারেল হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ১১৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। যাদের সবার প্রয়োজন হচ্ছে অক্সিজেন। এমন পরিস্থিতেও মানুষের স্বাস্থ্য সচেতন হচ্ছে না।

এজন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী ফেনীর জনগনকে উদ্যোশে জরুরী কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

কোভিড-১৯ পজিটিভ হলে বা উপসর্গ থাকলে আতঙ্কিত হবেন না
▪️ সচরাচর যে সব উপসর্গ থাকেঃ-
▪️জ্বর
▪️শুষ্ক কাশি
▪️ক্লান্তি অনুভব করা

➤ শরীর ব্যাথা,গলা ব্যাথা,ডায়ারিয়া,চোখ লাল হওয়া,মাথা ব্যাথা,খাবারের স্বাদ না পাওয়া,শরীরে র‍্যাশ হওয়া,আঙ্গুল ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।

▪️ গুরতর উপসর্গঃ-

➤ শ্বাসকষ্ট হওয়া, বুকে ব্যাথা, অথবা চাপ অনুভব করা, চলাফেরা অথবা কথা বলতে না পারা।

▪️ কোভিড-১৯ আপনার শরীরে ঢোকার পর সাথে সাথে আপনি ক্রিটিকাল হবেন না। সিম্পটম দেখা দেয়ার পর ৫/৬ দিন আপনি সময় পাবেন। শ্বাস প্রশ্বাস তন্ত্র ও রক্ত সংবহন তন্ত্র কভিড _১৯ ভাইরাসের টার্গট।শ্বাসকষ্ট হোক বা রক্ত জমাট বাঁধুক, তার আগে আপনি কয়েকদিন সময় পাবেন, যখন কিছু সতর্কতা আর কিছু মেডিসিনে খেয়ে ভাইরাসের লোড কমাতে পারবেন।

▪️ ওই ৫/৬ দিনকে যারা অবহেলা করেছে বা পাত্তা দেয়নি, ভেবেছে আমার করোনা হবেনা, বা এগুলো সাধারণ জ্বর/পেট খারাপ, তারা পরবর্তীতে critically ill হয়ে গেছেন।

▪️ যেকোনো উপসর্গ থাকুক, বা কোভিড-১৯ টেস্ট পজিটিভ থাকুক (উপসর্গ যুক্ত/ছাড়া), বাসায় আইসোলেশান এ থাকবেন। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলবেন।পরিচিত ডাক্তার বা টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়ে ঘরে চিকিৎসা করবেন। ফেইসবুকে ঘুরে বেড়ানো চিকিৎসা (মেডিসিন) নিজে নিজে চালাবেন না।

➤ আতঙ্কিত হবেন না ও হসপিটালে দৌড়াদৌড়ি করবেন না।

▪️ বেশীরভাগ ক্ষেত্রে জ্বর মেপে পাবেন না। বা ৯৮/৯৯ ডিগ্রি ফা. থাকবে। বা জ্বর জ্বর বোধ হবে। মাঝে মাঝে দু’এক বেলা বা দু’এক দিন জ্বর ফ্রি থাকতে পারেন। বিরতি দিয়ে জ্বর বারবার আসতে পারে। কারো কারো জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফা. এর উপর যেতে পারে। ১০/১১ দিন যাবত হালকা জ্বর থেকে যেতে পারে।

▪️ পরিবারের সকলের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। প্রত্যেকের উপসর্গ আলাদা আলাদা হতে পারে। কারো জ্বর, তো কারো পেট খারাপ, ইত্যাদি। এতজনের কোভিড-১৯ টেস্ট করানো হয়রানিমূলক ও ব্যয়সাধ্য। সম্ভব না। সে ক্ষেত্রে বয়স্ক জন এবং উপসর্গ বেশি এমন জনের টেস্ট করাতে পারেন। তারা পজিটিভ হলে বাকিরাও পজিটিভ ধরে নিবেন।

▪️ টেস্ট এর জন্য অত্র ফেনী জেনারেল হাসপাতালের নতুন বিল্ডিং এর ১০৯ নং রুমে যোগাযোগ করুন। এই জায়গায় নমুনা সংগ্রহ হয় এবং রেপিড আ্যান্টিজেন টেষ্টও হয়।

এক্ষেত্রে প্রসেস টা বলছি…

➤ করনা উপসর্গ নিয়ে আসার পর বহির্বিভাগে টিকিট কেটে-> করোনা সাসপেক্টেড হলে-> ফ্লু কর্নার-> ফর্ম ফিলাপ> টেস্টের জন্য পাঠানো -> * রেপিড টেস্ট অথবা আরটি পিসিআর টেষ্ট করা হয়। সাথে সাথে ফলাফল পেয়ে যাবেন বা অপেক্ষায় থাকবেন। ফেনীর সব কয়টি উপজেলায়ও কভিড রোগীদের স্যাম্পল কালেকশান ও পরীক্ষার ব্যাবস্থা আছ।

➤ তারপর বহিবিভাগের ডাক্তার দেখাবেন এবং প্রেসক্রিপশন নিয়ে ঔষধ সেবন করবেন।

➤শ্বাস কষ্ট হচ্ছে তখন কি করবেন?

▪️ সামান্য শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা অক্সিজেন স্যাচুরেশন না কমলে অর্থাৎ ৯৫- ১০০ এর মধ্যে থাকলে বাসায় বসেই চিকিৎসা করা সম্ভব। একটা পাল্স অক্সিমিটার বাসায় রেখে নিয়মিত স্যাচুরেশান মেপে নিতে পারলে ভালো হয়। ভয় পেয়ে হসপিটালে ঘুরে হয়রান হতে যাবেন না। আবার কোন কোয়াক ডাক্তারের পাল্লায় পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। এমন কি ডাক্তারের সাথে কোন কিছু লুকাবেন না।

➤ অক্সিজেনের প্রয়োজন হলেঃ-

অক্সিজেন স্যাচুরেশান ৯০ এর নীচে নেমে গেলে শ্বাসকষ্ট হলে ইমার্জেন্সির মাধ্যমে কভিড ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে যাবেন। ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এখন ১৫০ শয্যা কভিড রোগীদের জন্য নিদিষ্ট করা আছে।আরও আছে আই সি ইউ ও এস ডি ইউ। উপজেলা সমুহে ১০ বেডের সেন্ট্রাল লাইন সমৃদ্ধ কভিড বেড আছে।

➤ কভিড ভাইরাসে রক্ত জমাট বাধতে পারে। সেক্ষেত্রে কভিড নিশ্চিত হওয়ার পর সাথে সাথে রক্ত তরল রাখার ঔষধ ইনজেকশন বা টেবলেট চিকিৎসকের পরামর্শ মাফিক শুরু করতে হবে।

এদিকে সিভিল সার্জন ডা. রফিক উস সালেহীন জানান, বুধবার পর্যন্ত জেলায় শনাক্তকৃত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৮৫ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ হাজার ৭১ জন। নতুন করে ৫৫ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ৯৯ জন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় কর্মরত সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেনসহ এ পর্যন্ত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Sharing is caring!