বিশেষ প্রতিবেদক->>

কোরবানির ঈদে কোনোভাবে একটি পশুর চামড়াও দেশের বাইরে পাচার হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ফেনী জেলা চোরাচালান প্রতিরোধ টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান। মঙ্গলবার বিকেলে এ কথা বলেন জেলা প্রশাসক।

তিনি বলেন, চোরচালানে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচার যেন না হয় এবং দেশের চামড়া ব্যবসায়ীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা হবে।

চামড়া পাচার প্রসঙ্গে বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল আবদুর রহিম জানান, ঈদের দিন থেকে চামড়া পাচার রোধে সতর্ক অবস্থানে থাকবেন বিজিবি সদস্যরা।

তিনি জানান, ফেনীর ১০২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার মধ্যে দুই স্থানে ৫৭৯ ও ৩৩৪ মিটার সীমানা অরক্ষিত। তবে বিজিবি সদস্যদের তৎপরতায় এ দুই স্থান দিয়ে চামড়া পাচার বন্ধ করতে সক্রিয় থাকবে বিজিবি।

এদিকে ফেনীতে চামড়ার প্রতি ক্রমশ বিমুখ হয়ে উঠেছেন ফেনীর চামড়া ব্যবসায়ীরা। ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকেও বকেয়া টাকা আদায় করতে না পারায় পাঁচ বছর ধরে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। এবারও ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া কেনা নিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন পাঁচগাছিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা।

ট্যানারি শিল্প সূত্র জানায়, ঈদ সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। পশু ও আকারভেদে এবার চামড়ার দাম গতবারের চেয়ে সামান্য বেড়েছে। ট্যানারি ব্যবসায়ীদের এবার ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরু বা মহিষের চামড়া কিনতে হবে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়; গত বছর এই দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরু বা মহিষের চামড়ার দাম হবে ৩৩ টাকা থেকে ৩৭ টাকা, গত বছর যা ২৮ থেকে ৩২ টাকা ছিল।

এছাড়া সারা দেশে লবণযুক্ত খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৫ থেকে ১৭ টাকা, আর বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর খাসির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকায় বেঁধে দিয়েছিল সরকার।

Sharing is caring!