শাহজালাল রতন->>

ফেনীতে গরু ব্যবসায়ী শাহজালাল হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর আবুল কালামকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। ফেনী থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আবুল কালাম ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরুন্নবী ও র‌্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন।

কে এই কাউন্সিলর আবুল কালাম? গত বৃহস্পতিবার রাতে ফেনী শহরের সুলতানপুরে গরু ব্যবসায়ী শাহজালালকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এখন সর্বত্র আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী আবুল কালামের নাম ও তার উত্থানের কাহিনি। স্থানীয় বিরিঞ্জি গ্রামের মফিজুর রহমানের (কসাই মফিজ) ছেলে আবুল কালাম বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি বা আওয়ামী লীগ সব আমলেই সমাদর পেয়ে এসেছেন। এ দুটি দলের স্থানীয় নেতারাও তাকে ‘আপন’ করে নিয়েছেন। বিএনপিতে থাকতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চরম নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আবার আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর খড়ক চালিয়েছেন। এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি করে বেড়ালেও সমসময় তার ওপর ছিল ক্ষমতাসীন দলের ওপর মহলের ‘আশীর্বাদ’। এক সময় বিএনপি দলীয় এমপি জয়নাল আবেদীন ভিপির দেহরক্ষীর দায়িত্ব পালন করেছেন আবুল কালাম।

জেলা যুবদল সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী জানিয়েছেন, সে সময় জেলা যুবদলের সদস্য হয়ে আবুল কালামের রাজনীতি শুরু। দল ক্ষমতা হারালে সুযোগ বুঝে আওয়ামী লীগ বনে যান তিনি। তার বিরুদ্ধে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে ফেনী থানায়।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় আবুল কালাম ভোল পাল্টান। ওই সময় বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী ভিপি জয়নালকে ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাজারীর পক্ষ নেন। নির্বাচনের সময় দলবল নিয়ে ভিপি জয়নালের বাড়িতে কয়েক দফা গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলা চালিয়ে আলোচনায় আসেন আবুল কালাম। সে সময় বিএনপি প্রার্থীকে কার্যত ঘরে বন্দি করে রাখার মূল ভূমিকা পালন করেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য- ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আবুল কালামের জীবনের মোড় ঘুরে যায়। অল্পদিনের মধ্যেই তার রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। তরতর করে আওয়ামী লীগে একের পর এক পদ-পদবি পেতে থাকেন। ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়ে গত পৌর নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি হয়ে যান বিরিঞ্জি, সুলতানপুর ও আমিন বাজার এলাকার একচ্ছত্র অধিপতি। তার দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েন এলাকার প্রবীণ ও পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ নেতারা।

এদিকে গরু ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় নড়েচড়ে বসে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ জানান, ওই ঘটনায় পৌর আওয়ামী লীগকে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে দলে স্থান দিয়ে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আরও তদন্ত করা হবে।

এ বিষয়ে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন, শনিবার দুপুরে কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছেন। তদন্তে গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার প্রমাণ মেলায় সভায় আবুল কালামকে দল থেকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আদালতে সহযোগীর স্বীকারোক্তি : গতকাল দুপুরে গরু ব্যবসায়ী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি গ্রেপ্তার বাদল ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতকে তিনি জানিয়েছেন, আবুল কালামই গরু ব্যবসায়ী শাহজালালকে গুলি করে। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

Sharing is caring!