আদালত প্রতিনিধি->>

ফেনীতে গরু ব্যবসায়ী হত্যা মামলার ৩নং আসামি নাঈম হাসান শনিবার বিকেলে জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইনের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে নাঈম হাসানকে সুলতানপুরের একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আর এই মামলায় আরেক আসামি মো. সাগরকে শুক্রবার সকালে সুলতানপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার আদালতে তোলে পুলিশ রিমান্ড চাইলে বিচারক তার দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে ১০টি গরুবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ে শাহ জালাল নামের ওই গরু ব্যবসায়ী ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ রোডের সাহেববাড়ি এলাকায় আত্মীয় আল আমিনের বাসায় আসেন। গত বছরও তিনি ওই বাসায় থেকেই কোরবানির ঈদে গরুর ব্যবসা করেন।

আরে আগে গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা মামলার প্রধান আসামী ও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও একই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালামকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশক্রমে পৌর আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় সংগঠন বহির্ভূত কার্যকলাপ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পৌর‌ কাউ‌ন্সিলর আবুল কালামকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে আওয়ামী লীগের সকল কর্মকাণ্ড থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।

এর আগে ফেনীতে শাহ জালাল নামে এক গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ওয়ার্ড পৌর কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালামকে প্রধান করে ৩ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে নিহতের চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।মামলার অপর দুই আসামী হলেন কালামের সহযোগী রাজু ও নাঈমুল হাসান।

কালাম বিরিঞ্চি মফিজ মেম্বারের বাড়ীর মফিজুর রহমানের ছেলে। অপর আসামী রাজু একই বাড়ির দুলালের ছেলে ও হাসান ছাগলনাইয়া উপজেলার দক্ষিণ মুন্দিয়ার গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে।

তারও আগে কোরবানীর হাটে বিক্রয়ের জন্য শুক্রবার রাতে কিশোরগঞ্জ থেকে ১৫টি গরু নিয়ে ফেনী আসেন গরু ব্যবসায়ী শাহজালালসহ তার ১০ জন সহযোগী। গরু বোঝাই ট্রাকটি সদর উপজেলার আমিনবাজার সড়কে সাহেববাড়ী এলাকায় আলামিনের বাড়ির সামনে আসলে স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল কালামসহ তিনজন ব্যক্তি গরু বোঝাই ট্রাকের গতিরোধ করে। এসময় তারা ট্রাক থেকে গরু লুটের চেষ্টা করতে গরুর সাথে থাকা মালিক শাহজালাল ও তার লোকজন বাধা দেয়। গরু লুটের বিষয়টি বুঝতে পেরে আল আমিন ঘর থেকে বেরিয়ে এসে কাউন্সিলরকে বাধা দিয়ে কাউন্সিলর কালাম তাকেও মারধর করে। একপর্যায়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ক্ষিপ্ত হয়ে গরু ব্যবসায়ী শাহজালালকে মোটরসাইকেল করে তুলে নিয়ে যায়। পরে কালাম ও তার সহযোগীরা শাহজালালকে গুলি করে হত্যা করে পার্শ্ববর্তী নাগ বাড়ির একটি পুকুরে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। সকালে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকায় সাগর নামে একজনকে আটক করেছিলো পুলিশ। একই সাথে পুলিশ আবুল কালামকে বাড়ি থেকে রক্তমাখা একটি পাঞ্জাবী ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছিলো।

Sharing is caring!