বিশেষ প্রতিবেদক->>

ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরগুলোর নির্মানকাজ শেষের আগে দেওয়ালে ধরেছে ফাটল। দেওয়ালের আস্তরে ‘সিমেন্টে এর চেয়ে বালুর পরিমান’ বেশি থাকায় খসে পড়ছে পলেস্তরা। ঘরের চালে ব্যবহার হয়েছে নিম্মাননের কাঠ। নি¤œমানের ইট দিয়ে হচ্ছে গাথুনি ও মেঝে ঢালাইয়ের কাজ। ঘরনির্মান সামগ্রী ও ঘরের বর্তমান কাঠামো দেখে স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্বোধনের আগে বা পড়ে যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়বে উপহারের ঘর। প্রকল্প এলাকা সরেজমিন ঘুরে প্রতিবেদকও পেয়েছে অভিযোগের সত্যতা। তবে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে নির্মান কাজের নিম্মমান নিয়ে তাঁর কাছে কেউ কোন ধরণের অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান।

প্রকল্পের বিষয় নিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অজিত চন্দ্র দেবনাথের সাথে আলাপ করতে গত রোববার তাঁর কার্যালয়ে গেলে তিনি ছুটিতে রয়েছেন বলে জানান প্রকল্প সহকারী কর্মকর্তা মো. শাহ আলম। প্রকল্প সহকারী কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, ‘স্যার অজিত চন্দ্র দেবনাথের বাবা পরোলোক গমণ করেছেন। আসামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত তিনি ছুটিতে থাকবেন।’

এদিকে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প সহকারী কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, পরশুরামের তিনটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৩৮টি ঘর নির্মান করা হচ্ছে। গৃহহীন ৩৮ জন ব্যক্তিকে এসব ঘর উপহার দেওয়া হবে। ৩৮টি ঘরের মধ্যে বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে ১৫টি, মির্জানগর ইউনিয়নে ১৪টি, চিথলিয়া ইউনিয়নে ৬টি ও পরশুরাম পৌরসভায় তিনটি ঘর নির্মান করা হচ্ছে। ঘরপ্রতি নির্মান ব্যায় সরকারীভাবে বরাদ্ধ রয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ঘরগুলো নির্মানকাজের দায়িত্ব পেয়েছেন মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান ভুট্টু, চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীন, বক্সমাহদুম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফয়েজ উল্যাহ মামুন ও পরশুরাম পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর আবু শাহাদাত চৌধুরী।

বক্সমাহমুদ আশ্রয়ন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার (ইউপি সদস্য) ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ উল্যাহ মামুন জানান, ‘তার তত্বাবধানে ১৫টি ঘরের নির্মান কাজ চলছে। তিনি সার্বক্ষনিক প্রকল্পের কাজ দেখাশুনা করছেন। সরকারীভাবে ঘর প্রতি ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্ধ থাকলেও ওই অর্থে ঘর করা সম্ভব না।’

ঘর নির্মান কাজে অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্নকরা হলে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পে দূর্ণীতি কিভাবে হবে। এত অল্প টাকায় কি দুটি কক্ষ, রান্নাঘর ও টয়লেট নির্মান করা সম্ভব? দূর্ণীতি যাই দূরে থাক বরং প্রকল্প শেষ করতে উল্টো নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ হবে।’

বক্সমাহমুদ এলাকার ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি আবুল হাশেম বলেন,‘ঘরগেন যেন্নে বানার হেন্নে কি মানুষ থাইকেতে হাইরবো? সব দু’ম্বরি কাম চলের। ভাঙ্গি যাইবো যে কোন সময়।’

নাম ও পদবি প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা বলেন, ‘শুধু বক্সমাহমুদ না পরশুরামের নির্মানাধীন সবগুলো ঘর নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরী হচ্ছে। ঘরগুলো নির্মান কাজে দলীয় নেতারা জড়িত। ইচ্ছে থাকলেও অনেক কিছু নিয়ে মুখ খুলতে পারিনা।’

এদিকে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াঙ্কা দত্ত সাথে গত রোববার তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্মানাধীন প্রকল্পের বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। উর্দ্ধতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া তিনি কোন ধরণের মন্তব্য করতে পারবে না বলেও প্রতিবেদকে জানিয়ে দেন।

পরশুরাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘর নির্মান প্রকল্পে উপজেলার কোথাও কোন রকমের অনিয়ম হচ্ছে এমন কোন অভিযোগ আমি পায়নি।’

ফেনী জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান জানান, ‘গত ৩ জুলাই শনিবার অন্য একটি কাজে আমি পরশুরাম গিয়েছিলাম। ফেরার পথে আমি বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের আশ্রয়ন ঘরগুলো পরিদর্শন করেছি। তবে তখন কাজের মান যাচাই করার কোন উদ্যোশ ছিলো না। ঘরগুলো নির্মান কাজের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আগামী ২০ জুলাইর মধ্যে কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

কাজের মান নিয়ে কোন অভিযোগ পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নির্মানকাজ নিয়ে আমার কাছে কেউ কোন ধরণের অভিযোগ করেনি। নির্মানকারী ব্যক্তি থেকে কাজ বুঝে নেওয়ার সময় কাজের মান যাচাই করা হবে।’

Sharing is caring!