ক্রীড়া প্রতিবেদক->>

দুই দলের ইতিহাস যাঁদের জানা, তাঁরা মোটামুটি নিশ্চিত ছিলেন, ফাইনালে উঠতে ব্রাজিলকে তেমন কাঠখড় পোড়াতে হবে না।

সেটা করতেও হয়নি। প্রথম রাউন্ডেই মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল, সেখানে নেইমারের জাদুতে পেরুকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল ব্রাজিল। একই মাঠে দুই দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে আবারও ব্রাজিলের দাপটই দেখা গেল। আর তাতেই আরেকবার নেইমারের জাদুর ওপর ভর করে পেরুর বাধা পেরোল ব্রাজিল। নেইমারের সহায়তায় মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার গোলে পেরুকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠেছে স্বাগতিক ব্রাজিল।

স্কোরলাইন হয়তো ব্রাজিলের কর্তৃত্বের ব্যাপারটা অত বেশি বোঝাতে পারছে না। কিন্তু গোটা ম্যাচে পেরুর ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন নেইমাররাই। অন্তত প্রথমার্ধে।

৪-২-৩-১ ছকে খেলতে নেমে গোলকিপার এদেরসন মোরায়েসের সামনে দুই সেন্টারব্যাক হিসেবে ছিলেন পিএসজির সাবেক দুই সতীর্থ থিয়াগো সিলভা ও মার্কিনিওস। দুই ফুলব্যাক হিসেবে খেলেছেন জুভেন্টাসের দানিলো ও আতলেতিকো মাদ্রিদের রেনান লোদি। দুই হোল্ডিং মিডফিল্ডার ফ্রেড ও কাসেমিরোকে পেছনে রেখে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে খেলেছেন লুকাস পাকেতা, দুই পাশে রিচার্লিসন ও এভেরতন সোয়ারেস। সবার সামনে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেছেন নেইমার।

প্রথম থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের হাতে। তাও গোল আসতে তুলনামূলকভাবে দেরিই হয়েছে। ৩৫ মিনিটে পেরুর রক্ষণভাগের সঙ্গে একরকম ছেলেখেলা করেই ডিবক্সের বাঁ দিকে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে যান নেইমার। তিনজন ডিফেন্ডার চেষ্টা করেও উদ্যমী নেইমারের পা থেকে বল কেড়ে নিতে পারেননি। উল্টো নেইমার কাটব্যাক করে বল পাঠিয়ে দেন মাঝখানে অপেক্ষা করতে থাকা মিডফিল্ডার পাকেতার দিকে।

নেইমারের দিকে এগিয়ে যাওয়া গোলকিপার পেদ্রো গালেসের ফাঁকা গোলপোস্টে বল ঠেলে দিতে সমস্যা হয়নি পাকেতার। বাঁ পায়ের দুর্দান্ত প্লেসিংয়ে স্কোরলাইন ১-০ করে ফেলেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে রাজিয়েল গার্সিয়া মাঠে নেমে খেলার গতিপথ বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেন পেরুর হয়ে। এই লেফট উইঙ্গারের কল্যাণে বেশ কিছু সম্ভাবনাময় আক্রমণ গড়ে তোলে পেরু। কিন্তু শেষমেশ ব্রাজিলের রক্ষণের কাছে প্রতিবার হার মানতে হয় পেরুকে।

বিশেষ করে কাসেমিরোর কথা না বললেই নয়। রিয়াল মাদ্রিদের এই রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার দুর্দান্ত একটি ম্যাচ খেলেছেন আজকে। গোলকিপার হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটির এদেরসনও অসাধারণ এক ম্যাচ খেলেছেন, দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে খেলায় রেখেছেন।

আক্রমণের দিক দিয়ে প্রথমার্ধের ব্রাজিলকে দেখা যায়নি দ্বিতীয়ার্ধে। ছোট ছোট পাসে বেশ কয়েকবার ব্রাজিল রক্ষণকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল পেরু। শেষমেশ ১-০ স্কোরলাইনেই ম্যাচ শেষ হয়।

ব্রাজিলের হয়ে নেইমার যে কত গুরুত্বপূর্ণ, এ ম্যাচে আরেকবার বোঝা গেছে। এ নিয়ে সেলেসাওদের হয়ে ১১০ ম্যাচ খেলে ৬৮ গোল করার পাশাপাশি ৪৯ গোলে সহায়তা করা হয়ে গেল পিএসজির এই ফরোয়ার্ডের। অর্থাৎ ১১০ ম্যাচ খেলেই ১১৭ বার হয় গোল করেছেন, নয়তো সহায়তা করেছেন। ভাবা যায়!

ফাইনালে হয় আর্জেন্টিনা, নয় কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।

সূত্র : প্রথম আলো

Sharing is caring!