ঢাকা অফিস->>

৭ জুলাই থেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুরু হবে সফরের একমাত্র টেস্ট। এরপর ১৬, ১৮ ও ২০শে জুলাই ওয়ানডে বিশ্বকাপের সুপার লীগের ম্যাচ। এখান থেকে চাই বাংলাদেশের ৩০ পয়েন্ট। কিন্তু এবারের চ্যালেঞ্জটা বিদেশের মাটিতে। নিজেদের ঘরে জিম্বাবুয়ে ছেড়ে কথা বলবে না নিশ্চয়। তাই ওয়ানডে দলকে নিয়ে যেতে হবে সেরা প্রস্ততিটাই। তবে ওয়ানডে দলের বেশির ভাগ সদস্যই এখনও বাংলাদেশে। ৯ই জুলাই তারা দেশ ছাড়বে জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারের উদ্দেশ্যে।

তার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুতি শুরু হবে মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে কাল থেকে। বিদেশিরা না থাকায় দেশি কোচরা দায়িত্ব সামলাবেন বলে জানা গেছে বিসিবি’র সূত্রে। তবে তার আগের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের অন্যতম সদস্য তরুণ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করে নিচ্ছেন। এই জন্য তিনি ব্যবহার করছেন প্রযুক্তির। মাঠে অনুশীলন শুরু হয়নি তাই ঘরে বসেই ভিডিও দেখে জিম্বাবুয়ের শক্তি-দুর্বলতা, উইকেটের বৈশিষ্টও দেখেছেন মনোযোগ দিয়ে।

তিনি বলেন, ‘দেখেন এখনো আমরা ওয়ানডে দলের জন্য প্রস্তুতি শুরু করতে পারিনি। তবে তাই বলে যে বসে আছি এমন নয়। কিছুদিন আগে জিম্বাবুয়েতে পাকিস্তান দল সফরে গিয়েছিল। আমি সেই ভিডিওগুলো দেখছি। আপনারা জানেন, নিজেদের মাটিতে যে কোনো দলই বেশ শক্তিশালী। ওরা চেষ্টা করবে আমাদের চেপে ধরতে। তাই ওদের দলে যারা খেলবে আর ওদের পুরানো যে খেলা অনলাইনে আছে সে ভিডিওগুলো মন দিয়ে দেখে নিচ্ছি। হাইলাইটসগুলো দেখে আমি স্যারদের সঙ্গে আলোচনা করি। এরপর যখন প্রস্তুতি শুরু হবে তখন তো কিছু পরিকল্পনা থাকবেই।’

প্রযুক্তির এই সুবিধাকে সাইফুদ্দিন দেখেন অনেক বড় প্রাপ্তি হিসেবে। তিনি বলেন, ‘এটা অনেক বড় সত্যি যে আমাদের মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে এসব সাহায্য করছে। ভিডিওগুলো যদি না থাকতো তাহলে তাহলে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যান বা বোলারদের শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে কাজ করা কঠিন হতো। প্রযুক্তির ব্যবহারটা আসলে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে এখন বেশ সাহায্য করে।’

২৪ বছর বয়সী সাইফুদ্দিনকে টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট গড়ে তুলতে চায় একজন পরিপূর্ণ পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে। তিনিও তার প্রতি রাখা আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন দারুণভাবে। এখন পর্যন্ত ২৬ ওয়ানডে খেলে ১১১৫ রান করেছেন। হাঁকিয়েছেন দুটি ফিফটি। বল হাতে নিয়েছেন ৩৬ উইকেট। এই পারফরম্যান্সে এই তরুণকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ব্যাট হাতে দলের ফিনিশার হয়ে ওঠার।

এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা ম্যাচেই চেষ্টা করি দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং-বোলিং করার। হয়তো বা অনেক সময় হয় আবার অনেক সময় হয় না। তবে যখন ব্যাট হাতে থাকে তখন একজন ব্যাটসম্যানের মতই দায়িত্ব নেয়ার চেষ্টা থাকে। যদি টিমের জন্য ১৪০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করার প্রয়োজন হয় সেটিও করার টেষ্টা করি। দেখেন শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যে ম্যাচটা আমি মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়ি, তখন মনে হচ্ছিল যদি ১৫০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতে পারতাম দলের জন্য ভালো হতো। তখন সেট ব্যাটসম্যান মুশফিক ভাই ছিলেন। চেষ্টা করেছি টিকে থাকতে, মুশফিক ভাইকে সময় দিতে। যে কারণে কিন্তু সেই ম্যাচে ২৪০ এর বেশি রান হয়েছিল। এভাবেই দলের চাহিদা অনুসারে খেলার চেষ্টা করি।’

সূত্র : দৈনিক মানবজমিন

Sharing is caring!