স্পোর্টস ডেস্ক->>

লিয়ান্দ্রো পারেদেস ক্লাবে নেইমারের সঙ্গে খেলেন, জাতীয় দলে খেলছেন লিওনেল মেসির সঙ্গে। এমন তারকাদের সঙ্গে খেলার একটা সুবিধা হলো, যখন কিছুতেই কিছু হয় না, তখন তাঁদের দুজনের কাছে বল দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকা যায়। কারণ, বল পায়ে দুজন এতটাই অবিশ্বাস্য ক্ষমতার অধিকারী, সম্ভাব্য সেরা সমাধান তাঁদের কাছেই থাকে।

ব্যাপারটা মেসি-নেইমারের দলের ক্ষেত্রে ভালোভাবেই টের পাওয়া যায়। ক্লাব হোক বা জাতীয় দল, এই দুজনকে কেন্দ্র করেই খেলে তাঁদের দল। তবে ব্রাজিল বা পিএসজি দলে নেইমারের ওপর তাঁর দল যতটা নির্ভরশীল, আর্জেন্টিনা বা বার্সেলোনায় মেসির ওপর সতীর্থদের নির্ভরতা একটু বেশি লক্ষ করা যায়। বার্সেলোনায় তবু বুসকেতস-ডি ইয়ং-গ্রিজমান-পেদ্রিদের সুবাদে মেসির খানিক বিশ্রাম মেলে। কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সিতে যেন মেসিই সবকিছু।

কোপা আমেরিকা খেলতে পারেদেস এখন ব্রাজিলে। আর্জেন্টিনার হয়ে নিয়মিতই মাঠে নামছেন। আরও একবার মেসির দক্ষতা আর ক্ষমতা দেখে সামনাসামনি মুগ্ধ হচ্ছেন। এর মধ্যেও তাঁর মনে হচ্ছে, এত বেশি মেসি-নির্ভরতা দলের জন্য ভালো নয়।

কোপা আমেরিকায় ধীরে ধীরে গুছিয়ে উঠছে আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে চিলির সঙ্গে ড্র করার পর উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ের সঙ্গে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। যদিও দুটি জয়ই ন্যূনতম ব্যবধানের। লিওনেল স্কালোনির দল একটি গোল করে সেটি ধরে রাখার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। আর কোনোরকমে একটি গোল বের করার দায়িত্ব তো সব সময় মেসি পান আর্জেন্টিনায়।

তিন ম্যাচে একটি গোল করেছেন মেসি। গোলে সহায়তা করেছেন একটি। অন্য ম্যাচেও আর্জেন্টিনার সেরা মুহূর্তগুলো মেসির সুবাদেই পেয়েছে দলটি। কিন্তু পারেদেসের ধারণা, শুধু মাঠে মেসি আছেন, এটা ভেবেই তাঁকে পাস দেওয়াটা ঠিক নয়।

পারেদেসের চোখে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় মেসি। তাই তাঁর কাছে কোনোরকমে বল পাঠিয়ে দেওয়ার প্রলোভনটা টের পান ভালোমতোই। কিন্তু এটা করতে গিয়ে যে দলের আক্রমণ নষ্ট হতে পারে, সেটা বোঝেন এই মিডফিল্ডার। সংবাদমাধ্যম ওলের সঙ্গে কথোপকথনে বলেছেন, ‘আমি আর রদ্রিগো দি পল যখন কয়েকটা ম্যাচে একসঙ্গে খেলেছিলাম, আমরা মাথায় এটা গেঁথে নিয়েছিলাম যে সব সময় মেসিকেই পাস দিতে হবে, এমন বাধ্যবাধকতা তো আমাদের কেউ দেয়নি। বরং তাঁকে মাঠের এমন জায়গায় আমরা পাসটা দেব, যেখান থেকে তিনি সেটির সবচেয়ে বেশি সুবিধা তুলে নিতে পারেন।’

মেসি মাঠে থাকলে অন্য খেলোয়াড়েরা যে একটু হলেও গা ছেড়ে দেন, সেটা জানিয়ে দিলেন পারেদেস, ‘তিনি মাঠে থাকলে তাঁকে বল দিতে ইচ্ছা করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটাই সব সময় সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত না-ও হতে পারে। (কখন মেসিকে পাস দেব) এদিক থেকে আমাদের আরও বুদ্ধি খাটাতে হবে। সিদ্ধান্ত তো সবাই-ই নেয়, সেটা ভালো হোক বা খারাপ। কেউ ভাবতে পারে (মেসিকে পাস দিয়ে), তিনি সবচেয়ে সেরা সিদ্ধান্তটা নিচ্ছেন। কিন্তু আসলে যেটা করতে হবে সেটা হলো, তাঁকে পাস দেওয়াকে নিজের ‘‘দায়িত্ব’’ বানিয়ে না নিয়ে বরং তাঁকে এমন জায়গায় পাসটা দেওয়া, যেখানে তিনি (প্রতিপক্ষকে ভোগানোর মতো) সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবেন।’

আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রজন্মের সব খেলোয়াড় মেসিকে আদর্শ মানেন। তাঁর জন্যই কোপা আমেরিকা বা বিশ্বকাপ জিততে চান, এমন কথাও শোনান। কিন্তু পারেদেস একটু হলেও আলাদা। মেসি-নির্ভরতা যে দলের ক্ষতি করতে পারে, এটা প্রকাশ্যে বলে নিজের মানসিক দৃঢ়তার কথাও বুঝিয়ে দিয়েছেন পিএসজির মিডফিল্ডার।

কিন্তু এত দৃঢ় মানসিকতার খেলোয়াড় হয়েও মেসি বা নেইমারের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার কথা ভেবে প্রথমে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন পারেদেস। ওলেকে জানিয়েছেন, ‘আপনি ভাবতে শুরু করবেন, তাঁরা কেমন। আপনাকে কীভাবে গ্রহণ করবেন এবং আপনার সঙ্গে তাঁদের আচরণ কী হবে। আমি ভাগ্যবান, দুজনই আমাকে সেরা উপায়ে স্বাগত জানিয়েছেন। আমাকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছেন এবং দুজনের সঙ্গেই আমার ভালো সম্পর্ক। দুজনের সঙ্গেই খেলতে পছন্দ করি। এমন দুজনের সঙ্গে এক ড্রেসিংরুমে থাকতে পারাটাও আমাকে আনন্দ দেয়।’

সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো

Sharing is caring!