নিজস্ব প্রতিনিধি->>

ফেনীর সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন চৌধুরী আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার তেজকুনি পাড়ার বাসায় তার মৃত্যু হয় বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, “উনি সুস্থই ছিলেন। রোজা রাখার জন্য ভোররাতে উঠে সেহরি খেয়েছেন, ফজরের নামাজ পড়ার পর বাসাতেই মারা যান। সম্ভবত তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।”

আলতাফ হোসেনের মৃত্যুতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলাম গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

শোক বার্তায় তারা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুতে বৃহত্তর নোয়াখালী কর্মকর্তা ফোরামের শোক
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বৃহত্তর নোয়াখালী কর্মকর্তা ফোরামের সদস্য মোঃ আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন বৃহত্তর নোয়াখালী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন ও মহাসচিব মো. ইমরান।

এক শোক বার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, মরহুম আলতাফ হোসেন চৌধুরী একজন সৎ, যোগ্য, দক্ষ, এবং চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরী জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশার প্রতি উৎসর্গ, মানুষের প্রতি মমতা এবং দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ এ মৃত্যুঞ্জয়ী কর্মকর্তা সবার মাঝে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।

একজন আলতাফ হোসেন চৌধুরী
যখন ফেনীতে ছিলাম একদিন সে সময়ের জেলা প্রশাসক আবদুল কুদ্দুস খানের রুমে আমার ডাক পড়লো। আমি যাবার পর ডিসি স্যারআমাকে দেখিয়ে বললেন ও তথ্য অফিসার ওর বাড়ি নোয়াখালী। আমি দেখলাম অত্যন্ত সুদর্শন ব্যক্তি। আমার সাথে কথা বললেন। তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুর। শ্বশুর বাড়ি বেগমগঞ্জের একলাশপুর। সেই থেক শুরু। তথ্য অফিসার হিসেবে ফেনীতে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি ফেনীতে প্রথমে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ছিলেন।

কত প্রোগ্রাম আর মিটিং করেছি একসাথে তার কোন হিসেব নেই। মানুষের প্রতি মমত্ববোধ, পেশার প্রতি নিষ্ঠা আর দেশের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা তাঁকে উদ্দীপ্ত ও তাড়িত করতো। তাঁর আচরণ তাঁকে অনন্য করেছে, তিনি অন্তরের সৌন্দর্যে আমাদের আপ্লুত করেছেন। বরষার এ সে সব কথা করে দুচোখে বর্ষা নেমেছে। কিছুদিন আগে হোটেল সোনারগাঁওয়ে লক্ষ্মীপুর লক্ষ্মীপুরের একটি অনুষ্ঠানে আমি সাবেক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল এমপির সাথে কথা বলছিলাম, আমাকে টেনে নিয়ে এলেন যিনি মাস্ক খুলতেই দেখলাম তিনি আলতাফ হোসেন চৌধুরী। বহুদিন পর সেদিন স্যারের সাথে দেখা। অনেক কথা হল। সে অনুষ্ঠানে তাঁকে সংবর্ধনা দেয়া হল লক্ষ্মীপুরের কৃতি সন্তান হিসেবে। সচিবালয়ে তিনি ৬ নং ভবনে আর আমি ৪ নং ভবনে বসলেও ব্যস্ততার জন্য যাবো যাবো করেও কখনও যাওয়া হয়নি। দিনকয়েক আগে প্রজ্ঞাপন দেখলাম তিনি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের এমডি হিসেবে বদলী হয়েছেন। আমি ভেবেছি একদিন কারওয়ান বাজার তাঁর অফিসে গিয়ে দেখা করে একটি অনলাইন পোর্টালের জন্য পদ্মা ও মেঘনার বিজ্ঞাপন নেবো । কিন্তু আর নেয়া হয়নি।

আজ যখন সচিবালয় নিউজ গ্রুপে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার আনোয়ার হোসেনের প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেখলাম ‘আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুতে ধর্ম মন্ত্রী ও সচিবের শোক। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। অফিসে এসে জনসংযোগ কর্মকর্তাকে ফোন দিলাম। তিনি জানালেন, গতকাল মন্ত্রীসহ দুপুরে খাবার খেয়েছেন, মন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন তাঁকে রিলিজ করে দিতে, মন্ত্রী নাকি বলেছিলেন জুন এন্ডিং এ ৩০ জুনের পরে যেতে। উনি প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখেন। আজ ভোর রাতে রোজা রাখার জন্য সেহরে খেয়েছেন, রোজা মুখেই ফজরের নামাজের পর তিনি আমাদের ছেড়ে মহাকালের পথে নিঃশব্দে যাত্রা করলেন।

মৃত্যু অমোঘ। পবিত্র কুরআন আল্লাহ বলেছেন, ‘আমিই জীবন দান করি এবং মৃত্যু ঘটাই, সকলের প্রত্যাবর্তন আমার দিকে।

আজ বিকেলে তাঁর খবর নিতে তাঁর সেই নাম্বারে ফোন করলাম ফোন ধরলেন তাঁর নিকটাত্মীয়। জানালেন তাঁরা স্যারকে নিয়ে গ্রামের বাড়ির (লক্ষ্মীপুর) কাছাকাছি। অনেক কথাই জিজ্ঞেস করার ছিলো। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে কান্নার করুন আওয়াজে আমি আবারও কাঁদলাম।

মাহবুবুর রহমান তুহিন
প্রচার সচিব, বৃহত্তর নোয়াখালী কর্মকর্তা ফোরাম

Sharing is caring!