সোনাগাজী প্রতিনিধি->>

সোনাগাজীতে শ্যামল কান্তিু দাস নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে জাল দলিল সৃজন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সৃজনকৃত ভুয়া দলিল দেখিয়ে রতন চন্দ্র দাস নামে এক সেলুন দোকানীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছেন শ্যামল ও তার সহযোগিরা। সমীর চন্দ্র দাসের সাথে রতন চন্দ্র দাসের বায়নাকৃত সাড়ে ১৫শতক জমি জবর দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন শ্যামল। এমনটাই অভিযোগ করেছেন সেলুন দোকানী রতন চন্দ্র দাস। উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্ব চরচান্দিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শ্যামল কান্তি দাস উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চরচান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ওই গ্রামের কালি কুমার পন্ডিত বাড়ির হিমাংশু কুমার দাসের ছেলে।

ভুক্তভোগি পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার দক্ষিণ পূর্ব চরচান্দিয়া গ্রামের হিমাংশু কুমার দাসের ছেলে সমীর চন্দ্র দাস অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। ভারতে গিয়ে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে তার মালিকীয় দখলীয় ২৩১নং চরচান্দিয়া মৌজার বিএস জেল নং- ৯৩, সিএস ১২৬১দাগ, দিয়ারা ৬২২-নং খতিয়ানের ৫৫৩৯ ও ৫৫৫৯ দাগে সাড়ে ১৫শতক জমি বিক্রির প্রস্তাব করেন। চলাচলের পথ ও নিজের বসত বাড়ির সুবিধার্থে জমিটি পাশ্ববর্তী বাড়ির সন্তোষ কুমার দাসের ছেলে রতন চন্দ্র দাস ক্রয় করতে আগ্রহী হন। রতনের কাছে ৩ লাখ ৮৭হাজার ৫০০ টাকায় জমিটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত উপনীত হন সমীর। ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর রতনের কাছ থেকে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নগদে গ্রহণ করে বায়নাপত্র সম্পাদন করেন সমীর। একই সাথে তফসিলি ভূমি ও চৌহদ্দী অনুযায়ী সমীর চন্দ্র দাস জমিটি পরিমাপ করে রতন চন্দ্র দাসকে দখল বুঝিয়ে দেন। তিনি চিকিৎসার জন্য তড়িগড়ি করে ভারতে চলে যান। চিকিৎসা করানোর জন্য ভারতে গিয়ে সমীর অধ্যবধি দেশে ফিরে আসেননি। এরপর থেকে রতন চন্দ্র দাস ওই জমি নিজ দখলে রেখে চাষাবাদ করে আসছেন।

কিন্তু হঠাৎ করে সম্প্রতি সমীর চন্দ্র দাসের সৎ ভাই স্কুলশিক্ষক শ্যামল কান্তি দাস জমিটির মালিকানা দাবি করেন এবং ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে জমিটি জবর দখলের চেষ্টা চালান। ২০১৮ সালের ২১ জুন প্রতারণার মাধ্যমে সৃজনকৃত ভূয়া দলিল দেখিয়ে জমিটির খরিদ সূত্রে মালিকানা দাবি করেন শ্যামল। এ নিয়ে শ্যামলের সাথে রতনের বিরোধ দেখা দিলে রতন দলিলটির বৈধতা নিযে অনুসন্ধান চালান। দলিল দাতা সমীরের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া স্বাক্ষী ও সনাক্তকারীদের নাম-স্বাক্ষর দিয়ে দলিলটি সৃজন করেন শ্যামল। দলিলে উল্লেখিত জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাফিয়া খাতুন নামের এক নারীর জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচন অফিস থেকে উল্লেখিত জাতীয় পরিচয় পত্রের কপিতে ওই নারী ফেনী শহরের স্টেশন রোড এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

ওই নারী ও তার স্বামী মো.লিটনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা রতনকে জানান, শ্যামল ফেনী পিটিআইতে ট্রেনিং করার সময় ওই নারীর শাশুড়ির সাথে শ্যামলের পরিচয় হয়। সে সূত্রে সে একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দেয়ার কথা বলে ওই নারীর জাতীয় পরিচয় পত্রটি নেন। ওই জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার দিয়ে শ্যামল সমীরের নাম ব্যবহার করে দলিল লেখক নিজাম উদ্দিন, সাব রেজিস্ট্রার ও স্বাক্ষী সনাক্তকারীরা পরস্পর যোগসাজসে জাল দলিলটি সৃজন করেন। রতনের দাবি ২০১৫ সালে তার সাথে জমির বায়না করে চিকিৎসার জন্য ভারত যাওয়া সমীর দীর্ঘ ৬ বছরেও দেশে ফিরেননি। অথচ ২০১৮ সালের ২১জুনের তারিখ দেখিয়ে শ্যামল কিভাবে জাল দলিল সম্পাদন করলো? এনিয়ে তার সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাই তিনি এই দলিলের সঠিক রহস্য উন্মোচনের দাবি করেন। একই সাথে জাল দলিল সৃজনের সাথে যারা জড়িত রয়েছেন তাদেরও কঠোর শাস্তি দাবি করেন। শ্যামল ও তার সহযোগিরা সেই জাল দলিল নিয়ে রতনের কাছ থেকে জমিটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি জমিটি জবর দখলে ব্যর্থ হয়ে সম্প্রতি শ্যামল ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা রতন চন্দ্র দাসের স্ত্রী-কন্যাকে পিটিয়ে আহত করে এবং শ্লীলতাহানি করেন। এ ব্যাপারে রতনের স্ত্রী বাদি হয়ে মামলা করেন। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

রতনের সাথে সমীরের বায়না ও শ্যামল কান্তি দাসের ভুয়া দলিল সৃজনের বিষয়ে চরচান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সালিশি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন ও দুই পক্ষের মনোনীত সালিশদারগণ রতনের বায়না সঠিক বলে শ্যামলকে জমির মালিকানা দাবি করতে নিষেধ করেন। কিন্তু এরপরও শ্যামল স্থানীয় কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে রতনকে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছেন। রতনকে চাপে রেখে প্রভাবশালী মহল ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অর্ধেক পরিমাণ বায়নার টাকা ফেরৎ দেয়ার প্রস্তাবও দিচ্ছেন শ্যামল।

শ্যামল কান্তি দাস জাল দলিলের বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, দলিল লেখক জাতীয় পরিচয় পত্রের কোন একটি ডিজিট ভুল করে থাকতে পারেন। রতন যার সাথে বায়না করেছে তার সাথে বুঝা উচিৎ। আমার সাথে তার কোন লেনদেন নাই।

এ ব্যাপারে রতন চন্দ্র দাস বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মঙ্গলবার রাতে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

Sharing is caring!