বিশেষ প্রতিবেদক->>

গত বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি ভারতের ত্রিপুরা থেকে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বাঁধের মুহুরী অংশের উত্তর দৌলতপুর এবং কহুয়ার একাধিক অংশে ভাঙনে পানি ঢুকে প্লাবিত হয় ফেনীর ৩০টিরও বেশি গ্রাম। এভাবে প্রতিবছরই এসব এলাকার বাসিন্দাদের একাধিকবার বন্যার কবলে পড়তে হয়। প্রতিবারই মাঠের ফসল, পুকুরের মাছ, ঘরবাড়ি আর এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতির পর স্থানীয়দের পক্ষ থেকে জোর দাবি উঠে স্থায়ী সমাধানের।

গত রোববার (৬ জুন) রাতে ফুলগাজীর উত্তর শ্রীপুরে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে পানি। বৃষ্টি বাড়লে নতুন নতুন স্থানে বাঁধ ভাঙার শঙ্কাও রয়েছে। তাই স্থানীয়দের দাবি-টেকসই বাঁধের।

এ বিষয়ে স্থানীয় এক ভুক্তভোগী বলেন, প্রতিবছর একই ধরনের ক্ষতি হচ্ছে আমাদের। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

অপর এক ব্যক্তি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড যে ঠিকাদারের মাধ্যমে বাঁধের কাজ করিয়েছে, সেখানেই মূল গাফলতি রয়ে গেছে। আর সে কারণেই প্রতিবছর বাঁধ ভাঙে।

পরিদর্শনে গিয়ে বাঁধের ত্রুটির কথা জানিয়ে ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, যদি প্রতিবছরই এভাবে দায়সারা বাঁধের কাজ করা হয় তবে এই এলাকার মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান কখনও হবে না। এখানে স্থায়ী বাঁধ দিতে হবে এবং বাঁধগুলোতে স্লুইস গেট বানাতে হবে। তাহলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।

তবে স্থায়ী সমাধানে প্রতিবারের মতো বাঁধের ত্রুটি সারিয়ে দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছি। সেটি পাস হলেই এ এলাকার মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।

ফেনীতে ৯ বছর আগে দেড়শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২২ কিলোমিটার বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকেই এই বাঁধে প্রতি বছরই কোটি কোটি টাকা মেরামতের জন্য ব্যয় করা হয়। গত বছরও ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা মেরামতের জন্য ব্যয় হয়েছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

Sharing is caring!