ঢাকা অফিস->>

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ায় এখন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সেখানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি আছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

৩ মে খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট হওয়ায় সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে ২৭ এপ্রিল রাত থেকে হাসপাতালের একটি কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। গত ১১ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর করোনা-পরবর্তী জটিলতা দেখা দেওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

৬ মে খালেদা জিয়া শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা অনুভব করায় রাতেই তাঁর ছোট ভাই শামীম এস্কান্দর ধানমন্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে দেখা করেন। সেখানে তিনি খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে একটি লিখিত আবেদন দেন। ওই দিন রাতেই তা আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়। আজ রোববার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

পরে বিকেল চারটায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। সেখানে তিনি কেন খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, সে ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

কারণ হিসেবে মন্ত্রী বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার পরিবার যে আবেদন করেছে, তা মঞ্জুর করতে পারছি না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দর চিকিৎসার জন্য তাঁকে (খালেদা জিয়া) বিদেশে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাজা স্থগিত করে বাসায় থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। চিকিৎসার সুযোগ দিয়েছেন। খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিচ্ছেনও। এর মধ্যে তাঁর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, খালেদা জিয়ার ভাই আবেদনটি নিয়ে এসেছিলেন। পরে তা আইন মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় থেকে যে মতামত এসেছে, তাতে তাঁকে বিদেশে পাঠানোর অবকাশ নেই। সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ নেই।

খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাঁর ব্যক্তিগত এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নমুনা পরীক্ষায় এখন তিনি করোনা নেগেটিভ। তাঁর ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই। শ্বাসকষ্ট এখন নেই। তবে অক্সিজেন লাগছে, পরিমাণ আগের চেয়ে কমেছে।

Sharing is caring!