শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীতে শিশু তানিশা ইসলামকে (১১) নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার দায় স্বীকার করেছে তার জেঠাতো ভাই আক্তার হোসেন নিশান (১৪)। শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী।

তিনি জানান, ব্যক্তিগত জীবনে নিশানের বাবা জীবিত না থাকায় তানিশার পরিবার তাদের কথায় কথায় তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতো। এ আক্রোশের জেরে রাগে-ক্ষোভে সে তানিশাকে হত্যা করে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ মে) দিনগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশু তানিশাকে বাসায় একা রেখে মা-বোন পাশের বাড়িতে যান। সে সুযোগে পরিকল্পিতভাবে নিশান ঘরে ঢুকে। তানিশাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তানিশাকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে। পরে তানিশা অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে টেনে-হেঁচড়ে বাড়ির দোতলায় নিয়ে সিলিংয়ের সঙ্গে দড়ি বেঁধে আত্মহত্যা করেছে বলে বাঁধার চেষ্টা করে। কিন্তু এতেও ব্যর্থ হয় নিশান। এ সময় পাশে পড়া থাকা একটি আম কাটার ধারালো ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করা হয়। এর ঘণ্টা দেড়েক পর ঘরে তানিশাকে না পেয়ে তার মা ছাদের দিকে খুঁজতে গেলে তার গলা কাটা মরদেহ দেখতে পান।

খবর পেয়ে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এ সময় ঘরের ছাদ থেকে পাওয়া একজোড়া স্যান্ডেলের সূত্র ধরে তানিশার জেঠাতো ভাই অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নিশানকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে নিহত তানিশার ভাই আশরাফুল ইসলাম হাসনাত বাদী হয়ে জেঠাতো ভাই নিশানকে আসামি করে গত শুক্রবার (৭ মে) সকালে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দুপুরে নিশানকে আদালতে হাজির করলে সে আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। আদালতের নির্দেশনায় নিশানকে ঢাকায় কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের আলী ভূঞা বাড়ির সৌদি প্রবাসী শহিদুল ইসলামের মেয়ে তানিশা ইসলামের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Sharing is caring!