ঢাকা অফিস->>

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। চারজনের নমুনা পরীক্ষা করে একজনের শরীরে এ ধরন শনাক্ত হয়েছে। শনিবার (৮ মে) রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।

রাজধানীর বনানীতে বসবাস করা ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় এই ধরন পাওয়া যায় বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষক দল। এ সংক্রান্ত তথ্য জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটাতে (জিআইএআইডি) প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে ব্রিফিং করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ছয়টি ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়েছে। দুটি সরাসরি ডাবল মিউটেন্ট, বাকি চারটি কাছাকাছি। এছাড়া, হাসপাতাল থেকে পালানো আটজনের মধ্য এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়নি বলেও ওই ব্রিফিং এ জানানো হয়।

করোনার ভারতীয় ধরনটি ‘বি.১.১৬৭’ নামে পরিচিত। এ ধরনটিকে অতি সংক্রামক বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতে করোনার সংক্রমণ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এ ধরন ভূমিকা রাখছে।

এ ছাড়া গত ৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসা ছয়জনের শরীরে করোনাভাইরাসের আরেক নতুন ধরন পাওয়া যায় বলে আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়।

এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি করোনাভাইরাসের দক্ষিণ আফ্রিকান ধরনের অস্তিত্ব মেলে বাংলাদেশে।

এদিকে যশোরে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভারতফেরত যাত্রীদের মধ্যে দুইজনের শরীরে ভারতীয় ভেরিয়েন্টের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

শনিবার (০৮ মে) জোনাম সেন্টারের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন।

এ অবস্থায় ওই দুই রোগীকে আলাদা করে চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি ভারত থেকে ফেরার পথে তার সংস্পর্শে আসা সব ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে ভারতের সাথে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গত ২৬ এপ্রিল থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা বিশেষ অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরছেন। গত ৪ মে পর্যন্ত বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এক হাজার ৫৭৭ জন দেশে ফিরেছেন।

যাদের বেনাপোলসহ যশোর জেলা ও পার্শ্ববর্তী চার জেলার হোটেলসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি স্থাপনায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬জন করোনা পজিটিভ যাত্রীকে নমুনা সংগ্রহ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জোনাম সেন্টারের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষায় পাঠানো হয়।

এর মধ্যে তিনজনের নমুনা পজিটিভ এসেছে। এ তিনজনের মধ্যে দুইজনের শরীরের করোনার ভারতীয় ধরনের অস্তিত্ব মিলেছে বলে নিশ্চিত করেছেন জোনাম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ।

তিনি বলেন, ভারতীয় ধরনের নম্বর হলো বি ১.৬ ১৭.২। তবে এটি ডাবল মিউট্যান্ট নয়। ভারতের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ এ ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত। ইউকে’তে এটি ছিল ৫৯ শতাংশ। তারপরও এ ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ রোধে সতর্ক হতে হবে।

এই অধ্যাপক আরও বলেন, আমরা আশা করছি যারা ভারত থেকে ফিরতে তাদের পরীক্ষার পাশাপাশি পৃথক পরিবহন ব্যবস্থায় কোয়ারেন্টাইনে নিতে হবে এবং নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে।

এদিকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, যশোর জেনারেল হাসপাতালে থাকা ওই দুই রোগীকে আলাদা করে চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি ভারত থেকে ফেরার পথে তার সংস্পর্শে আসা সব ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আমরা যে দুইজনের নমুনায় ভারতীয় ভেরিয়েন্ট মিলেছে তাদের নমুনার হোল জিনোম সিকোয়েন্স করার উদ্যোগ নিয়েছি।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলিপ কুমার রায় বলেন, আমরা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জোনাম সেন্টারের পিসিআর ল্যাব ও আইইডিসিআরে নমুনা পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি আইইডিসিআর’কে অবহিত করা হয়েছে।

Sharing is caring!