দাগনভূঞা প্রতিনিধি->>

দাগনভূঞা পৌর শহরে পল্লীচিকিৎসক আব্দুল মান্নানকে ৭০ হাজার টাকা অর্থদন্ড (জরিমানা) করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার দুপুররে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) গাজালা পারভীন রুহি ভুল ও অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং নির্ধারিত রোগের বাইরে রোগী দেখাসহ বিভিন্ন অপরাধে পল্লী চিকিৎসক আব্দুল মান্নানকে জরিমানা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পল্লীচিকিৎসক আব্দুল মান্নান “চর্মরোগে বিশেষ অভিজ্ঞ” পরিচয় দিয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিনের জটিল চর্মরোগে ভোগা মহিলার ব্যাবস্থাপত্রে সম্পূর্ণ ভুল ও অযাচিত ঔষধের ব্যবহার করা রোগী অভিযোগ দিলে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম তার চেম্বার পরিদর্শনে যান। এসময় অভিযোগে সত্যতা পায়। এছাড়াও ওই পল্লীচিকিৎসক একাধিক ব্যবস্থাপত্রে শক্তিশালী স্টেরয়েড ক্রিম এবং অযাচিত এন্টিফাংগাল ঔষধের ব্যবহার করতে দেখা যায় যা সঠিক রোগ ছাড়া কোনভাবেই ব্যবহার করা উচিত নয় এবং বিনা কারনে এন্টিফাংগাল ব্যবহারের কারনে রোগীর এধরনের ঔষধের প্রতি রেজিস্ট্যান্স/অকার্যকারিতা তৈরি হয়ে যেতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়।

এমন সব অপরাধের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) গাজালা পারভীন রুহি অভিযান চালিয়ে মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ অনুযায়ী
পল্লীচিকিৎসক আব্দুল মান্নানকে ৭০ হাজার টাকা অর্থদন্ড (জরিমানা) করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) গাজালা পারভীন রুহি জানান, পল্লী চিকিৎসক আব্দুল মান্নান তার জন্য নির্ধারিত রোগ ব্যাধির চিকিৎসা সাধারণ সর্দি, জ্বর, ডায়রিয়া ছাড়াও নিয়মিত চর্মরোগের ঔষধ (স্টেরয়েড/এন্টি ফাংগাল) তার ব্যবস্থাপত্রে লিখেছেন এবং ঔষধগুলোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি অবগত নন। এ সময় দুই জন রোগীর ব্যবস্থাপত্র পরীক্ষা করা হয় এবং ভুল চিকিৎসার প্রমাণ মেলায় অর্থদণ্ড করা হয়।

অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আসিফ উদ-দৌলা সিফাত ও দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!