নিজস্ব প্রতিনিধি->>

দাগনভূঞায় ও ফুলগাজীতে কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছেন যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। শনিবার সকালে দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর ও মাতুভূঞা ইউনিয়নের উত্তর আলীপুর গ্রামের কৃষক ওবায়দুল হকের ৮০ শতক ও মজিবুল হকের ১২৫ শতক জমির ধান কেটে ও মাড়াই করে ঘরে পৌঁছে দেয়া যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। অপরদিকে সকাল থেকে ফুলগাজী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছালেহ আহমেদ মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক একরাম পাটোয়ারীর নেতৃত্বে উপজেলা যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ধান কাটা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

করোনা ভাইরাসের কারণে ধান কাটা শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দাগনভূঞা ও ফুলগাজী উপজেলায় অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন যুবলীগ। উপজেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কেটে কৃষকের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন। দাগনভূঞায় যুবলীগের এ মহতি উদ্যোগের সূচনা করেন জেলা যুবলীগ সভাপতি ও দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন। ধান কাটায় অংশ নেন জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আহমেদ রিয়াদ আজিজ রাজীব, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আবুল ফোরকান বুলবুল ও সাধারন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

দাগনভূঞা উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ও মাতুভূঞা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল্লা আল মামুন জানান, উপজেলায় এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হলেও করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে যানবাহন চলাচল না করায় ধান কাটা শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকের লোকসান কমানোর জন্য আমরা গরিব কৃষকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। সংগঠনটির কর্মীরা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের ধান কেটে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছেন।

ফুলগাজী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সালেহ আহমেদ মিন্টু জানান, করোনা মহামারীতে চলমান লকডাউনে শ্রমিক সংকটের কারনে পাকা বরো ধান মাঠে যখন অসহায় কৃষক দিশেহারা তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে অনুসরণ করে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্দেশনায় ও ফেনী জেলা যুবলীগের আহবানে ফুলগাজী উপজেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা এই ধান কাটা কর্মসূচিতে অংশ নেন। শনিবার সকাল থেকে যুবলীগের ৬০ জন নেতাকর্মী ওই গরিব কৃষকের প্রায় ৮০ শতক জমির ধান কেটে ঘরে তুলে দেন। আগামীতেও এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির রতন জানান, আমন ধান ঘরে তুলতে কৃষকেরা শ্রমিক সংকটের কারনে যেন হতাশায় না পড়ে সেদিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এবং ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপির নির্দেশনানুযায়ী উপজেলা যুবলীগ নেতাকর্মীরা কৃষকের ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দেয়। এতে কৃষক কোন পারিশ্রমিক দেয়া ছাড়া ঘরে ফসল তুলতে পারতেছে। যুবলীগের এ মহতি উদ্যোগ কৃষকদের অনুপ্রেরণা যোগাবে, কৃষকরা ভবিষ্যতে আরো বেশী করে ফসল ফলাবে। যতদিন কৃষকদের ধান ঘরে না উঠবে যুবলীগের নেতৃত্বে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

দাগনভূঞা ও ফুলগাজীর মতো জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা কৃষকের ধান কেটে ঘুরে তুলে দিবেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

Sharing is caring!