বিশেষ প্রতিবেদক->>

ফেনী জেনারেল হাসপাতালে করোনায় সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসায় গত বছরের ১৭ মে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) এর কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ওইদিন ফিতা কেটে ও নামফলক উম্মোচন করে ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী।

উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, সিভিল সার্জন ড. সাজ্জাদ হোসেন (প্রয়াত), হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী, আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন ভূঞা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঘটা করে উদ্বোধনের ১১ মাস পার হতে চললেও চালু করা সম্ভব হয়নি ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)।উদ্বোধনের পর ততকালীন সিভিল সার্জন ড. সাজ্জাদ হোসেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসিইউ প্রয়োজন হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ফেনীতে করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকায় রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকায় সংকটাপন্ন রোগীরা আইসিইউর অভাবে মারা যাচ্ছেন। আইসিইউ চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, তালা দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে আইসিইউ ইউনিট। উদ্বোধনের পর আর কখনই খোলা হয়নি আইসিইউ ইউনিট।

ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমার আব্বার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। যদি অবস্থা আরও বেশি খারাপ হয় তাহলে কী করব? এখানে আইসিইউ সুবিধা থাকলে টেনশন করা লাগত না। এমন আইসিইউ বানায়ে কী লাভ হলো?’

রোগীর স্বজন শরিফুল ইসলাম জানান, আইসিইউয়ে বিশেষ ধরনের শয্যা, কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ভেন্টিলেটরসহ নানান সুবিধা থাকে। করোনায় আক্রান্তদের জন্য এগুলো খুবই জরুরি। কিন্তু এখানে আইসিইউ বন্ধ থাকায় অনেক রোগীকে ঢাকা-চট্টগ্রাম নেয়ার পথেই মৃত্যু হচ্ছে।


হাসপাতালটির আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিটের ইনচার্জ হাসিনা বেগম বলেন, ‘আইসিইউতে একজন রোগীর ৩০ লিটার অক্সিজেন লাগে। তাদের দিতে গেলে আর অন্য রোগীদের দিতে পারব না। তখন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, গত কয়েকদিন আগে আইসিইউর অভাবে তার সামনেই একজন মানুষকে মরতে দেখেছেন তিনি। মারা যাওয়া ব্যক্তিটি একজন ডাক্তারের বাবা ছিলেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত বছরের এপ্রিল থেকে জেলায় কোভিড রোগী শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে রোগীর প্রকোপ বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কোভিড সেবা দেয়ার জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ৩০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালটিতে ৭৫ শয্যায় আইসোলেশন উন্নীত করা হয়। গত বছর থেকে এ পর্যন্ত ১১ জন কোভিড পজেটিভ রোগী ফেনী জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। এছাড়া অর্ধশতাধিক রোগী উপসর্গ নিয়ে মারা যায়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত বছরের ১৭ মে হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ উদ্বোধন করা হয়। ১০ শয্যার আইসিইউ চালু করতে একজন ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসক, ৩ জন কনসালটেন্ট ও ৬ জন মেডিকেল অফিসার প্রয়োজন। ইতিমধ্যে আইসিইউ সেবা চালুর জন্য একজন চিকিৎসক ডা. আসিফ ইকবাল ও ৫ জন নার্সকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ইকবাল হোসেন ভূঞা জানান, করোনার সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য ভেন্টিলেটরের চেয়ে অক্সিজেন গুরুত্বপূর্ণ। নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সেবার প্রস্তুতি চলছে। আপাতত লিকুইড অক্সিজেন দিয়ে দুই থেকে তিনটি শয্যা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

Sharing is caring!