বিশেষ প্রতিনিধি->>

ফেনীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৪১ জন। বুধবার নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ মলিকুলার ল্যাবে ফেনী জেলার ১১৭টি এবং সিভিল সার্জন অফিস, নোয়াখালী থেকে পাঠানো ফেনী জেলার ১৩৩ জন বিদেশগামী যাত্রীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া ফেনী বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে ৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে নতুন করে ৪১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন ৪১ জনসহ জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৮৯৬ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার পর্যন্ত জেলায় ২ হাজার ২৫৬ জন সুস্থ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মাসুদ রানা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত বছরের ১৬ এপ্রিল ফেনীতে প্রথম এক যুবকের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রামন শনাক্ত হয়। ফেনীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জেনেক্সপার্ট ল্যাব, নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাব, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে পরীক্ষার জন্য মোট প্রেরিত ১৬ হাজার ৯৪৮ টি নমুনা প্রেরণ করা হয়েছে এদের মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৫টি নমুনার ফলাফল পাওয়া যায়। জেলায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার প্রায় ১৭.৪৫ শতাংশ।

বুধবার নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদরের ২২ জন, দাগনভূঁঞায় ৯ জন, ছাগলনাইয়ায় ৩ জন, ফুলগাজীতে ৩ জন, পরশুরামে ৩ জন, সোনাগাজীতে ১ জন রয়েছে। শনাক্তকৃত মোট করোনা রোগীর ৪৩.৯২ শতাংশ রোগীই ফেনী সদরের।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, আক্রান্তদের মধ্যে ২০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। এর মধ্যে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ১৩ জন, ছাগলানইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩জন, দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ও ফেনীর মেডিনোভা হাসপাতালে ৩ জন রোগী রয়েছে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী জানান, হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৩০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছেন ৫৬ জন রোগী। যাদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ ও ১৯ জন নারী। তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ৭জন পুরুষ ও ৬ জন পজিটিভ রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

জেলায় আক্রান্ত ২ হাজার ৮৯৬ জনের মধ্যে ফেনী সদরে ১ হাজার ২৭২ জন, দাগনভূঞায় ৫০৫ জন, ছাগলনাইয়ায় ৩৭৮ জন, সোনাগাজীতে ৩৪১ জন, পরশুরামে ১৯৩ জন, ফুলগাজীতে ১৭০ জন ও ফেনীর বাইরের ৩৬ জন রোগী রয়েছে।

ফেনীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলার কর্মরত সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেনসহ ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী রয়েছে। মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৯ জন, সোনাগাজীতে ১১ জন, দাগনভূঞা উপজেলায় ৮ জন, ছাগলনাইয়ায় ৬ জন, পরশুরামে ৩ জন ও ফুলগাজীতে একজন রয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, ব্যাংকার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিশু রয়েছে। ফেনীতে আক্রান্ত অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসা নিতে যেয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেলেও বেশিরভাগ মৃতব্যক্তিদের সংখ্যা জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে তালিকায় যোগ হয়নি।

প্রসঙ্গত, ফেনীতে কোভিড-১৯ শনাক্ত’র চার মাসের মাথায় সংক্রমিতের সংখ্যা ১ হাজার ৫শ অতিক্রম করলো। সংক্রমিতের সংখ্যা ৫শ ছাড়াতে সময় লাগে ৭৬ দিন। পরের ৫শ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে সময় লাগে ২৬ দিন। আর পরবর্তী ৫শ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে ৩৫ দিন সময় লাগে। কোভিড-১৯ শনাক্ত’র সাত মাসের মাথায় সংক্রমিতের সংখ্যা ২ হাজার ও সাড়ে ১১ মাসের মাথায় সংক্রমিতের সংখ্যা ২ হাজার ৫শ অতিক্রম করলো।

Sharing is caring!