বিশেষ প্রতিনিধি->>

ফেনীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৫৮ জন। রোববার নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ মলিকুলার ল্যাবে ফেনী জেলার ৯২টি এবং সিভিল সার্জন অফিস, নোয়াখালী থেকে পাঠানো ফেনী জেলার ১৬৬ জন বিদেশগামী যাত্রীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া ফেনী বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে ৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে নতুন করে ৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন ৫৮ জন সহ জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৭৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার পর্যন্ত জেলায় ২২৩৪ জন সুস্থ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মাসুদ রানা।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত বছরের ১৬ এপ্রিল ফেনীতে প্রথম এক যুবকের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রামন শনাক্ত হয়। ফেনীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জেনেক্সপার্ট ল্যাব, নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাব, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ১৬ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। জেলায় রোববার পর্যন্ত ১৬ হাজার ৬০৮ জনের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে ১৬ হাজার ২২৩ জনের করোনা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদরের ২২ জন, দাগনভূঁঞায় ১৫ জন, ছাগলনাইয়ায় ১২ জন, সোনাগাজীতে ৮ ও ফুলগাজীতে ১ জন রয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, ব্যাংকার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিশু রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য অর্ধশত রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্তরা হোম আইসোলেশনে ও জেনারেল হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে একইদিন সিভিল সার্জন অফিস, নোয়াখালী থেকে পাঠানো ফেনী জেলার ৩৭৭ জন বিদেশগামী যাত্রীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

ফেনীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় সিভিল সার্জনসহ ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৪০ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী রয়েছে। মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৫ জন, সোনাগাজীতে ১১ জন, দাগনভূঞা উপজেলায় ৮ জন, ছাগলনাইয়ায় ৬ জন, পরশুরামে ৩ জন ও ফুলগাজীতে একজন রয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ফেনীতে আক্রান্ত অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসা নিতে যেয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেলেও বেশিরভাগ মৃতব্যক্তিদের সংখ্যা জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে তালিকায় যোগ হয়নি।

প্রসঙ্গত, ফেনীতে কোভিড-১৯ শনাক্ত’র চার মাসের মাথায় সংক্রমিতের সংখ্যা ১ হাজার ৫শ অতিক্রম করলো। সংক্রমিতের সংখ্যা ৫শ ছাড়াতে সময় লাগে ৭৬ দিন। পরের ৫শ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে সময় লাগে ২৬ দিন। আর পরবর্তী ৫শ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে ৩৫ দিন সময় লাগে। কোভিড-১৯ শনাক্ত’র সাত মাসের মাথায় সংক্রমিতের সংখ্যা ২ হাজার ও সাড়ে ১১ মাসের মাথায় সংক্রমিতের সংখ্যা ২ হাজার ৫শ অতিক্রম করলো।

Sharing is caring!