শহর প্রতিনিধি->>
বেসরকারী টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে সোমবার থেকে আগামী সাত দিন সারাদেশ লাকডাউন করার ঘোষণা বার্তা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে ফেনীর হাট-বাজার গুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে ক্রেতারা। হঠাৎ ক্রেতাদের চাপ দেখে দোকানরিাও বাঁড়িয়ে দিয়েছে পন্যের দাম। শহরের বড় বাজার, পৌর হর্কাস মার্কেট, মহিপাল কাঁচা বাজার, সিও অফিস বাজারসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের হাট বাজারগুলোতে বেশির ভাগ মানুষ সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য চাল, ডাল, তেল, নুন, পেঁয়াজ, আলু কিনছেন।

সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক ভিডিও বার্তায় জানান, দেশে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ৫ এপ্রিল সোমবার থেকে সারাদেশে ৭দিনের লকডাউন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসময় গণপরিবহন চলাচল ও রেলযোগাযোগ বন্ধ থাকবে। জরুরী পন্যবাহি পরিবহন ও জরুরী সেবা লকডাউনের আওয়াতামুক্ত থাকবে। ঠিক একই তথ্য দিয়েছেন এরপর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

এদিকে হঠাৎ করে সারাদেশে এক সপ্তাহে লকডাউনের খবরে ফেনীর ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া, মিশ্রপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন বাজারে আতঙ্কের কেনাকাটা বা প্যানিক বায়িং শুরু হয়ে গেছে। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাজারে ভিড় করছে। কেউ কেউ একসঙ্গে বাড়তি পরিমাণ পণ্য কিনে ঘরে ফিরছেন।

শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলার অন্যতম বড় বাজারে ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় দেখা যায়। বেশির ভাগ মানুষ সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য—চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ ও আলু কিনছিলেন।

বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ভরদুপুরে সাধারণত এমন ভিড় থাকে না। লকডাউনের খবর শুনেই ক্রেতারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বাজারে আসছেন। তবে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কেউ কেউ বলছেন, একদিকে মাসের প্রথম শনিবার, অন্যদিকে সামনের সপ্তাহ থেকে রোজা। অনেকেই মাসের ও রোজার বাজার একসঙ্গে করছেন। তাই ক্রেতা কিছুটা বেশি।

ক্রেতাদের একজন মাসুদুল করিমের হাতে মোটামুটি লম্বা ফর্দ দেখা গেল। তিনি বলেন, ‘রোজার বাজার গতকাল শুক্রবার করেছি। লকডাউনের খবর শোনার পর আবার বাড়তি কিছু কিনে রাখার জন্য বাজারে এসেছি। তবে এক দিনের ব্যবধানে পণ্যের দাম কেজি প্রতি ৪/৫ টাকা হারে বেড়ে গেছে। এমনকি একই পণ্যের দাম একেক দোকানে একেক রকম চাচ্ছে।

একাডেমীর বাসিন্দা জাভেদ হোসেন জানান, তিনি বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় বাসা থেকে ‘লকডাউন’ দেওয়ার খবর জানিয়ে ডাল, পেঁয়াজ, আলু ও সবজি নিয়ে যেতে বলা হয়। তিনি বলেন, ‘লকডাউন’ কত দিন থাকে, বলা তো যায় না। তা ছাড়া এই সময়ে বাজারে যত কম আসতে হয় ততই ভালো। তাই যতটুকু সম্ভব বাজার করলাম।

তবে পৌর হর্কাস মার্কেটের বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল বলেন, চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ ইত্যাদির সরবরাহে ঘাটতি নেই। তিনি মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন।

শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী বলেন, এমনিতে করোনা বিপর্যয়ের কারণে বিগত সময়ের ক্ষতি এখনো পুষিয়ে আনতে পারেননি তারা। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা ঋণ, ধার দেনায় জর্জরিত আছেন। তবু সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান জানান, করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রশাসনের একাধিক দল প্রতিদিন মাঠে কাজ করছেন। পাশাপাশি লকডাউনের চিঠি এখনো পাননি তারা। মন্ত্রনালয় থেকে লকডাউনের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রসঙ্গত, দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। এরপর ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি শুরু হয়। তখন সাধারণ ছুটির আগে বাজারে ব্যাপক ভিড় হয়েছিল। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেশ বেড়ে যায়। এ বছর চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগে থেকেই চড়া।

Sharing is caring!