ঢাকা অফিস->>

দেশে ১৮ বছরের পর জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হলেও এখন থেকে জন্মের পরই দেওয়া হবে বলে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফলে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি নম্বর দিয়েই একজন নাগরিককে চিহ্নিত করা হবে। ১০ ডিজিটের এই নম্বরের নাম দেওয়া হয়েছে ইউনিক আইডি নম্বর।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্মের প্রথম দিন, অর্থাৎ শূন্য বয়স থেকে ১০ বছরের নিচে আর ১০ থেকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত- এই দুই ভাগে ভাগ করে ইউনিক আইডি নম্বর দেওয়া হবে।

শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন অধিদফতরে এসব তথ্য দিয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মগহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘জন্মনিবন্ধন অধিদফতরই সারাদেশে এই আবেদন গ্রহণ করবে। এই অধিদফতরের সার্ভারের সঙ্গে আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সার্ভার যুক্ত করে দেওয়া হবে। জন্মনিবন্ধন অধিদফতর শিশু তথ্যগুলো আমাদের সার্ভারে পাঠাবে। এর ভিত্তিতে আমাদের সার্ভার জেনারেটর একটা নম্বর প্রস্তুত করে তা পাঠাবে। এটিই হবে ইউনিক নম্বর।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই নম্বরটি মানুষ তৈরি করবে না। নম্বরটি সার্ভার জেনারেটর এলগরিদমের মাধ্যমে তৈরি করে দেবে। শিশুর বাবা-মার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরের ভিত্তিতে তথ্য যাচাই করে সার্ভার জেনারেটর ইউনিক নম্বরটি তৈরি করবে।’

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, এখন একজন নাগরিককে জন্মনিবন্ধন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ভোটার নম্বর, আয়কর টিন নম্বর, ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর-এ ধরনের অনেক নম্বর ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু ইউনিক আইডি নম্বর দেয়া হলে সব ক্ষেত্রে এই একটি নম্বর ব্যবহার করে সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, একজন নাগরিক জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি নম্বর ব্যবহার করবেন এবং মৃত্যুর পরও সেই নাগরিক সম্পত্তি বণ্টন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে ওই নম্বর বাধ্যতামূলক করা হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় সন্ত্রাস এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা নাম-পরিচয়, জন্মতারিখ পাল্টিয়ে ফেলে।

কিন্তু জন্মের প্রথম দিন থেকেই রাষ্ট্রের কাছে কোনও নাগরিকের তথ্য থাকলে তা পাল্টানোর সুযোগ কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, জন্ম থেকেই নাগরিকের তথ্য যখন থাকবে, তখন অপরাধ দমনে সেই তথ্য সহায়ক হবে। শিশু বয়স থেকেই একটি ইউনিক নম্বরের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার এবং সুবিধা নিশ্চিত করা সহজ হবে। এ সময় তিনি আইনের বাধ্যবাধকতার কথাও তুলে ধরেন।

সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘২০১০ সালের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন রয়েছে। সেই আইনে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে পরিচয়পত্র দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে।’

‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল অনুসারেও ২০৩০ সালের মধ্যে প্রত্যেক নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্যই এখন শিশুর জন্মের প্রথম দিন থেকেই ইউনিক নম্বর দিয়ে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে ১০ থেকে ১৭ বছরের বয়সের শিশু-কিশোরদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ১০ বছর পুরো হওয়ার পর কোনও শিশু যখন ১১ বছরে পা দেবে, তখন তার বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে ইউনিক নম্বরের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

বায়োমেট্রিক তথ্য হিসাবে ফিঙ্গার প্রিন্ট ও চোখের আইরিশের তথ্য নেওয়া হবে এবং ছবি তোলা হবে। এসব তথ্য ইউনিক নম্বরের সঙ্গে যুক্ত করে ১০ থেকে ১৭ বছর পর্যন্ত বয়সীদের লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। কিন্তু তারা ভোটার হবে না। তথ্যভাণ্ডারে সেভাবেই তথ্য থাকবে।

কর্মকর্তারা বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য যে টিম সারাদেশে আগে কাজ করেছে। দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে সেই টিমগুলোকে স্কুলগুলোতে পাঠিয়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের বায়োমেট্রিকসহ সব তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, ১৮ বছর পুরো হলে তখন দেওয়া হবে স্মার্টকার্ড এবং ভোট দেওয়ার অধিকার পাবে।

Sharing is caring!