শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীর তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য বাসস্থান ও কবরস্থান ব্যবস্থা করে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান। ফেনীর ধর্মপুরে তাদের পছন্দ অনুযায়ী থাকার জায়গা ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

বুধবার দুপুরে শহরের সালাহ উদ্দিন এলাকায় একটি গণমিলনায়তনে আয়োজিত ‘তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জীবন মান, উন্নয়নে প্রয়োজন সবার অংশীদারিত্ব’ শিরোনামে মানুষ মানুষের জন্য নামক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন প্রতিশ্রুতি দেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠন সহায়ের সহযোগিতায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোছা. সুমনী আক্তার, তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের ফেনী জেলা সমন্বয়ক সুন্দরী হিজড়া।

সহায়’র উপদেষ্টা বখতিয়ার মুন্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রিপন নাথ, নারী উদ্যোক্তা মহিনুর জাহান লাবণী, কালের কন্ঠ জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান দারা। আরো বক্তব্য রাখেন লিপি, আশা, কবিতা, রুমি, মমতা হিজড়া।

জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান বলেন, আপনাদের সরকারিভাবে জমি ও ঘর করে দেয়া হবে কিন্তু আপনাদের আচরণে যাতে মানুষ কষ্ট না পায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আমি নিজে গিয়ে আপনাদের জায়গা দেখাব আপনারা পছন্দ করে নিবেন। আপনাদের কাজ করে উপার্জন করতে হবে। কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন প্রদান করা হবে। সেলাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, এই দেশ সকলের। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে ভোটাধিকার দিয়েছেন।

সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন বলেন, আমরা যদি আমাদের মনমানসিকতা পরিবর্তন না করি তবে তৃতীয় লিঙ্গদের সুবিধা দিতে পারবনা। আমাদের দুই পক্ষেরই মানসিক পরিবর্তন দরকার। তিনি আরো বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের সব ধরণের চিকিৎসা ফেনীর সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি সকল প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিকে ব্যবস্থা থাকবে।

ফেনীতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের দাবি প্রসঙ্গে জেলার প্রধান সমন্বয়ক সুন্দরী হিজড়া বলেন, আমাদের নিজস্ব কবরস্থান ও বাসস্থানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। আমাদের আশ্রয় দরকার মাথা গোঁজার জন্য। আমাদের জেলার এমপি মহোদয় ও জেলা প্রশাসন থেকে আমাদের বলেছে দাবিগুলো পূরণ করা হবে। আমরা শীঘ্রই এ তার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

ফেনী সিভিল সার্জন অফিসের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শিপলু সরকারের উপস্থাপনায় তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সভা শেষে জেলা প্রশাসক উপস্থিত তৃতীয় লিঙ্গের প্রত্যেককে কম্বল উপহার দেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্মকর্তা, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহায়’র সভাপতি মনজিলা আক্তার মিমি,সহসভাপতি জুলহাস তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক দুলাল তালুকদারসহ সংগঠনের সদস্য এবং তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের অর্ধশতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ফেনীতে প্রায় ১৫০ জন তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছে, যারা ফেনীর বিভিন্ন উপজেলায় বসবাস করছেন।

Sharing is caring!