পরশুরাম প্রতিনিধি->>

পরশুরামে ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে ভুট্টো চেয়ারমানের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তা। গত ২২ অক্টোবর পরশুরাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল জাব্বার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। গত ২৮ অক্টোবর পুলিশের প্রতিবেদনের উপর শুনানী হয়েছে। অভিযুক্ত তিন ছাত্রলীগ নেতাকে আগামী ২৬ জানুয়ারি আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয় জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে একই আদালতে গত ৯ সেপ্টেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মির্জানগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান ভুট্টো। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে পরশুরাম থানার পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলো।

ফেসবুকে অপপ্রচার ও কুৎসা রটনার অভিযোগ এনে দায়ের করা মামলায় আসামীরা হলেন- মির্জানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল্লা মামুন লিংকন, ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. বিপুল ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বর্তমানে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মরত সাইফ উদ্দিন স্বপন।

মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরজ্জামান ভুট্টো মামলার এজহারে উল্লেখ করেন, গত ১৭ ও ১৮ আগষ্ট এবং বিভিন্ন সময়ে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাদীর বিরুদ্ধে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার ও কুৎসা রটনা করে সামাজিক মান-মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছেন এবং সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে ধারাবাহিক ভাবে তারা এসব অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

পরশুরাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল জাব্বারের তদন্ত প্রতিবেদন সুত্র জানায়, মামলায় স্বাক্ষী দেয়া হয়েছে মির্জানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. কামাল, সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, বর্তমান ছাত্রলীগ সভাপতি পাভেল, মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ জাহিদ এবং ছাত্রলীগ নেতা মোঃ সোহাগ। এছাড়াও মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আওয়ামীলীগ নেতা আবু বক্কর, উপজেলা ছাত্রলীগ যুগ্ন আহবায়ক হাবিবুর রহমান সাকিব পুলিশকে স্বাক্ষ দিয়েছে। ১৬১ ধারায় পুলিশ তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ফজলুল বারী মনছুর জানান, গত ১৫ আগস্টের কর্মসূচীতে জামায়াত নেতাদের অতিথি করাকে নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে আমাদের বিতর্ক হয়েছে। ওই দিন বিকেলে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রথম পোস্ট দেয় লিংকন, পরে একে একে আমরা সবাই প্রতিবাদ করি। ওই ঘটনায় চেয়ারম্যানকে উপজেলা আওয়ামীলীগ কারন দর্শানোর নোটিশ করে।

ইউপি মেম্বার মনছুর আরো জানান, একই সময়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নারী সংক্রান্ত অপপ্রচার চালায়। কে বা কারা অপপ্রচার চালিয়েছে আমরা তা জানিনা। ফেইক আইডি গুলো উদঘাটন করে বিচারের আওতা আনার জন্য সকলে দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু সেটা না করে সরাসরি নারী সংক্রান্ত কোন পোস্ট না দেয়া সত্বেও মামলাতে এই তিন সাবেক নেতাকে আসামী করা হয়। আমি মনে করি জামায়াত ইস্যুর প্রতিবাদের শোধ নেওয়ার চেষ্টা করেছে চেয়ারম্যান।

অভিযুক্ত লিংকন জানান, জামায়াত নেতাকে শোক দিবসের কর্মসূচীতে অতিথি করায় প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ফেসবুকে নারীর ছবি দিয়ে অপপ্রচারের সাথে তিনি সম্পৃক্ত নন বলেও দাবি করেন।

Sharing is caring!