ফুলগাজী প্রতিনিধি->>

ফুলগাজীতে মুহুরী ও কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুটি স্থানে ভেঙ্গে ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভারত থেকে নেমে আসা হঠাৎ পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মুহুরী নদীর উত্তর দৌলতপুর ও কহুয়া নদীর দৌলতপুর অংশে ভাঙ্গান ধরে ৫টি গ্রাম তলীয় গেছে। রোববার সকাল ৯টার দিকে মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে নেমে আসা উজানের পানির প্রবল চাপে শনিবার রাত ১২টার দিকে ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর দৌলতপুর এলাকার মোহাম্মদ উল্যাহর বাড়ির পাশে মুহুরী নদীর বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওই অংশে ৫০-৬০ ফুট ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। একইসাথে উত্তর দৌলতপুরে কহুয়া নদীর বাঁধের ভেঙে যায়। ফলে ভাঙ্গন অংশ দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকে দৌলতপুর, উত্তর দৌলতপুর ও দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামসহ অন্তত ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফুলগাজী বাজারের পশ্চিম অংশে শ্রীপুর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে ফুলগাজী উপজেলা সদরের মূল সড়ক তলিয়ে যায়।

চেয়ারম্যান আরো জানান, বাঁধ ভাঙ্‌গার কারনে ৫টি গ্রামের বিস্তৃর্ণ এলাকা পানিতে তলীয়ে যায়। এলাকার ঘরবাড়ি পানি ঢুকায় পানি বন্দি হয়ে পড়েচে কয়েক’শ পরিবার। গ্রামের রোপা আমন ও শীতকালীন সবজি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তলীয়ে গেছে রাস্তাঘাট। ভেসে গেছে কয়েক’শ পুকুরের মাছ, ডুবে গেছে মুরগি খামার।

দৌলতপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন জানান, তিনি সাড়ে ৬ একর জমিতে রোপা আমন ও খিরা চাষ করেছেন। ঢলের পানিতে খেত ডুবে আছে। বিপুল পরিমান লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন চাষী।

ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম জানান, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৬ হাজার ২শ হেক্টর জমির রোপা আমন ও ৪০ হেক্টর শীতকালীন সবজির খেত আবাদ হয়েছে। সদর ইউনিয়নের ঘনিয়মোড়া ব্লকে ৪২০ হেক্টর রোপা আমন হয়েছে। এর মধ্যে ১০৫ হেক্টর রোপা পানিতে ডুবে ডুবে আছে। ১৩.৫ হেক্টরের মধ্যে ৬ হেক্টর সবজি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন জানান, শনিবার বিকাল ৩টার দিকে মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ২৯৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও রোববার সকাল ৬টায় মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ১৩.৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ৯টার দিকে পানি কিছুটা করে ১৩.৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মুহুরী ও কহুয়া নদীর বাঁধের ভেঙ্গে যাওয়া অংশে পানি কমে গেলে বাঁধ মেরামতে কাজ শুরু করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুলাই মুহুরী নদীর ৬ স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার ১৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিলো। পানি উন্নয়ন বোর্ড দায়সারাভাবে বাঁধ মেরামত করায় মুহুরী নদীতে পানির চাপ একটু বাড়তেই সেই বাঁধ হুড়মুড়িয়ে ফের ভেঙ্গে পড়েছে।

Sharing is caring!