ক্রীড়া প্রতিবেদক->>

দুর্দান্ত ইয়র্কারে আল আমিন হোসেনের স্টাম্প এলোমেলো করে বাঁধনহারা উদযাপনে মেতে উঠলেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। এরপর সিজদা করলেন মাটিতে। সতীর্থরাও তুমুল করতালিতে অভিনন্দন জানালেন তাকে। গ্যালারিতে দর্শক নেই, তবে ড্রেসিং রুমে যারা ছিলেন, তাদের দিকেই বল উঁচিয়ে ধরে সাইফ মাঠ ছাড়লেন গর্বিত ভঙ্গিতে। ৫ উইকেট বলে কথা!

আন্তর্জাতিক ম্যাচ তো নয়ই, ঘরোয়া টুর্নামেন্ট বা স্বীকৃত কোনো ম্যাচও নয়। সাইফের এই উচ্ছ্বাস তবু খুব বেমানান লাগল না। এই আসরের মান যেমনই থাকুক, তার বোলিংয়ের মান নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ থাকছে সামান্যই। প্রেসিডেন্ট’স কাপের শুরু থেকেই দারুণ বোলিং করে চলেছেন এই পেসার। সেটির ধারাবাহিকতায় টুর্নামেন্টের প্রথম ৫ উইকেট শিকারি বোলার তিনিই।

শান্ত একাদশের বিপক্ষে বুধবার তামিম একাদশের হয়ে ২৬ রানে ৫ উইকেট নেন সাইফ। ব্যক্তিগত সেরা বোলিং কীর্তির পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি উইকেটও এখন তার, ১২টি।

এই টুর্নামেন্ট সাইফের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্যই। গত এক বছরে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পিঠের চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিটকে যেতে হয় লম্বা সময়ের জন্য। তার ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কার নানা কথাও শোনা গেছে তখন। শোনা গেছে আগেও।

হতাশার পাঁচ মাস পেরিয়ে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ক্রিকেটে ফেরেন তিনি বিসিএলের একটি ম্যাচ দিয়ে। ভালো করতে পারেননি সেখানে। আবার পুনর্বাসনের কাজ করেন জোর দিয়ে। মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ফেরেন জাতীয় দলে।

শঙ্কা উড়িয়ে তার সেই ফেরা ছিল বেশ দাপুটে। দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টিতে দারুণ বোলিং করেন। ওই সিরিজ শেষে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচও খেলেন। এরপরই করোনাভাইরাসের বিরতি। দীর্ঘ চোটের পর জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে যে ছন্দে ফিরেছিলেন, তাতে আবার ভাটা পড়ার শঙ্কা তীব্রভাবেই ছিল।

লম্বা সময় নিজ জেলা ফেনীতে বসে থেকে বিরক্ত সাইফ এক পর্যায়ে নিজের উদ্যোগে উইকেট তৈরি করে শুরু করেন অনুশীলন। তার সেই নিবেদন যে বৃথা যায়নি, সেটির প্রমাণ এই প্রেসিডেন্ট’স কাপ। শুরু থেকেই জ্বলে উঠেছেন তিনি।

প্রথম ম্যাচে ৪ ওভার বোলিংয়ে মাত্র ৮ রানে নেন ২ উইকেট। লিটন দাস ও ইমরুল কায়েস ছিলেন তার দুই শিকার। পরের ম্যাচে একটু খরুচে হলেও আবার নেন ২ উইকেট।

তৃতীয় ম্যাচে নিজেকে আরেকটু ছাড়িয়ে যান। এবার ৩ উইকেট। নতুন বলে মোহাম্মদ নাঈম শেখকে বোল্ড করার পর পুরনো বলে ফেরান মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির রহমানকে। ওই ম্যাচে ব্যাট হাতে খেলেন ২৯ বলে ৩৮ রানের দারুণ ইনিংস।

নিজের বোলিং স্কিলের পুরোটা মেলে ধরেছিলেন যেন বুধবারের ম্যাচে। প্রায় নিখুঁত লাইন-লেংথ, ছোট ছোট সুইং আর শেষ দিকে দুর্দান্ত সব ইয়র্কার। বিশেষ করে ডেথ ওভারে তার বোলিং জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টকে করে তুলতে পারে দারুণ আশাবাদী। ২.৩ ওভারের ওই স্পেলে মাত্র ৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি।

প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরা তখন খুব ভালো কেউ ছিলেন না বটে। তবে সাইফের ইয়র্কারগুলোর নিশানা ছিল দারুণ। যে কোনো ব্যাটসম্যানের জন্যই তা হতে পারত বিপজ্জনক।

সব মিলিয়ে পিঠের সেই চোট আর করোনাভাইরাসের লম্বা বিরতির ধাক্কা কাটিয়ে খুব ভালোভাবে যে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন সাইফ, সেটি নিয়ে সংশয় নেই। এবার স্রেফ তা ধরে রাখা এবং সামনের আরও বড় চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি হওয়ার পালা।

Sharing is caring!