বিশেষ প্রতিনিধি->>

একটি ল্যাপটপ বিশ্ব জয়ের হাতিয়ার। দেশে বর্তমানে ৭ লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সার রয়েছে। যারা ১.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে। স্মার্ট ইকোনমিক গড়ে তুলতে তারা কাজ করে চলেছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বুধবার দুপুরে ফেনীর পিটিআই স্কুল মাঠে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে “হার পাওয়ার” প্রকল্পের আওতায় ফেনী ছাড়াও চাঁদপুর ও লক্ষীপুর জেলার মোট ৭৪৫ জন নারী প্রশিক্ষনার্থীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে স্মার্ট উপহার ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রতিমন্ত্রী ল্যাপটপ প্রাপ্তদের উদ্যেশে বলেন,”২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ কেমন হবে তার নির্ভর করবে তোমাদের উপর। ঘরে বসে আর্থিক স্বচ্ছলতা হবে নারীদের। নারীরা আর জব সিকার না হয়ে জব ক্রিয়েটর হবে। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য দরকার নারীর সক্ষমতা।”

পলক বলেন, “দেশে যৌতুকপ্রথা ব্যাধী হয়ে উঠছিল। ৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে নারী শিক্ষার প্রসার, যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখে। একসময় প্রাইমারী স্কুলে পুরুষ শিক্ষক ছিলেন। এখন ৬০শতাংশ নারী। প্রধানমন্ত্রীর অসংখ্য সিদ্ধান্তে নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ২০০৮ সালে ঘরে ঘরে বিদ্যুত ছিল না। এখন শতভাগ বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। ১৩ কোটি মানুষ ইন্টারনেটে যুক্ত। ১৫ বছর আগের চেয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। আইটি সেক্টরে ২০ লাখ তরুন-তরুনীর কর্মসংস্থান হয়েছে।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রতিটি প্রশিক্ষনার্থীদের পাঁচ মাসের প্রশিক্ষণ কোর্সের পিছনে সরকার লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করছে। আগামীতে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত দুই শিফটে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত নারী, ছয়টা থেকে নয়টা পর্যন্ত পুরুষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবে। ফেনীতে আরও একসাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেনীতে আরো ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হবে।”

ফেনী জেলা প্রশাসক মোসাম্মৎ শাহীনা আক্তার এর সভাপতিত্বে ল্যাপটপ বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী ১ আসনের সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম , ফেনীর ২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী পুলিশ সুপার জাকির হাসান , ই কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ই ক্যাবের) প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার।

কোডার্সট্রাস্ট বাংলাদেশ এর প্রকল্প ও যোগাযোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী তারানা’র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো.মোস্তফা কামাল। প্রশিক্ষণার্থীদের থেকে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলার উদ্যোক্তা সাবিয়া জাহান , লক্ষ্মীপুর জেলার উদ্যোক্তা ইসরাত জাহান তানজিনা ও ফেনী জেলার উদ্যোক্তা চৈতি সাহা।

বিশেষ অতিথি ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ই ক্যাব)’র প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীকে যোগ্য আসনে বসানো হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের পাশাপাশি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে তরুণীদের এগিয়ে আসতে হবে।

বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রীর জুনায়েদ আহমেদ পলক ফেনী চরাঞ্চল সোনাগাজী উপজেলার উত্তর চর চান্দিয়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী (উচ্চতায় খর্বাকার ও দু’পায়ের পাতা বেকে যাওয়া) মোছাম্মদ নাজমা আক্তারের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ল্যাপটপ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

জানতে চাইলে শারীরিক প্রতিবন্ধী নাজমা আক্তার বলেন, গত তিন মাস ধরে আইটি সার্ভিস প্রোভাইডার বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করার পর এই প্রশিক্ষণটি তার কর্ম ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা রাখবে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতাও তার অদম্য চলার পথকে রুদ্ধ করতে পারবে না।

লক্ষীপুরের গ্রাফিক্স ডিজাইনার কোর্সে অংশগ্রহণকারী আকলিমা আক্তার বলেন, গত তিন মাস ধরে গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপরে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আজকে যে ল্যাপটপটি পেয়েছি এর মাধ্যমে আমার কাজ করতে সুবিধা হবে। আমার মাধ্যমে আরও অনেক নারী প্রশিক্ষণ নিতে পারবে।

চাঁদপুরের গ্রাফিক ডিজাইনার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শতাব্দী পোদ্দার বলেন, সরকারিভাবে প্রাপ্ত প্রশিক্ষণটি তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করতে অনুপ্রাণিত করেছে । প্রশিক্ষণ শেষে আমি চেষ্টা করব আরো বেকার নারীদের প্রশিক্ষিত উদ্যোক্তা তৈরি করতে।

ফেনী সদর উপজেলার আইটি সার্ভিস এ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাবরিনা মেহজাবিন বলেন , ইতোমধ্যে আমার ৭৬ টি ক্লাস শেষ হয়েছে। আমি গ্রাফিক্সের অনেক কিছু কাজ রপ্ত করেছি। আজ যে ল্যাপটপটি পেয়েছি এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা কো-অর্ডিনেটর আল ইমরান জানান, উইমেন আইটি সার্ভিস প্রোভাইডার কোর্সে ৬ মাসব্যাপী ৮০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তারা প্রশিক্ষণ শেষে অনলাইন ও অফলাইনে সাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।

ফেনী পিটিআই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলার ৭৪৫ জন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুরে ২৬৫, চাঁদপুরের ২৪০ জন ও ফেনীর ২৪০ জন নারী রয়েছে।