শহর প্রতিনিধি->>

ফেনীতে চুরির অভিযোগে এক নারীকে (৩৫) পিলারের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। এ সময় তার গলায় ‘আমি চোর’ লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে দেয় নির্যাতনকারীরা। অমানবিক এ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ফেনী ডায়াবেটিস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই হাসপাতালে প্রধান ভবনের মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, পিলারের সঙ্গে বেঁধে ওই নারীর গলায় ‘আমি চোর’ লিখা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় প্ল্যাকার্ড। ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরালের পর এটি নিয়ে ওই এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটির কমেন্টে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন অনেকে। তবে এ ঘটনায় মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ফেসবুকে  সৌরভ নামে একজন লিখেন, ‘সুযোগ পেলে কম-বেশি সবাই করে চুরি। কিন্তু সমস্যা হলো সাধারণ কেউ হলে তাকে এমনভাবে প্রচার করে মনে হয় সে দেশের হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়েছে’, কিন্তু বড় বড় চোর-ডাকাতদের কথা কেউ প্রকাশ করতেও চায় না, হ্যাঁ এটাই আমাদের নীতি নৈতিকতা!’

ফেনী সরকারী কলেজের সহকারী অধ্যাপক হাবীবুর রহমান কমেন্টে লিখেন, ‘কেউ অপরাধ করলে দেশের ফৌজদারি আইনে তাকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। পুলিশকে ইনফর্ম করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু একজন মহিলাকে পিলারের সাথে বেঁধে রাখা দেশের প্রচলিত আইনের সাথে কি সাংর্ঘষিক নয়?’

এ ব্যাপারে ফেনী ডায়াবেটিস হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) খান মোহাম্মদ আসাদ উল্যাহ গালিব জানান, হাসপাতালের ভেতর প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন জায়গা থেকে চোরেরা এসে রোগী ও স্বজনদের মোবাইলসহ দামি জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এর আগে ও এক নারী চোরকে চুরির সময় হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। তবে যারা গলায় চোর লিখা ঝুলিয়ে পিলারের সঙ্গে বেঁধেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ফেনী ডায়াবেটিস হাসপাতালের দুইজন নিরাপত্তাকর্মী এক নারীকে ফেনী মডেল থানায় সোপর্দ করে। তবে দুপুর পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়নি।’