বিশেষ প্রতিনিধি->>

ফেনীতে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধ ও হরতাল নাশকতার ঘটনায় ৬ থানায় ২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ১৩৫ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল দাবি করেন এসব মামলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের দুই’শ নেতাসহ আড়াই শতাধিক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে।

গত রোববার রাতে ফেনী শহরের অদূরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল এলাকায় খাগড়াছড়ি বাস ষ্ট্যান্ডের সামনের সড়কে একটি দাঁড়িয়ে থাকা সুগন্ধা বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছ। এ ঘটনায় গত রোববার রাতে ওই বাসের চালক দাউদুল ইসলাম বাদি হয়ে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তদের আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া নাশকতার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম উদ্দিন হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক দাউদুল ইসলাম মিনার চেয়ারম্যান, আবুল কালাম ওরফে ম্যাট স্বপন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এসএম কায়সার এলিনসহ বিএনপির ১১জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত সংখ্যকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী বাস পোড়ানোর ঘটনায় ও নাশকতার অভিযোগে দুটি মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার রাতে বাসে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এদিকে রোববার রাতে ফেনী সদর উপজেলার মহিপাল এলাকায় বসে নাশকতার পরিকল্পনা করা ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপের ডিবি পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক বাদী একটি মামলা করেছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ পন্ড ও পুলিশ সদস্য হত্যার পর ফেনী জেলার মডেল থানা, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী, সোনাগাজী, দাগনভূঞা ও পরশুরাম থানায় বিভিন্ন অপরাধে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২২টি নাশকতা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২২টি মামলার মধ্যে ৪টি মামলায় কোন আসামীর নাম ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি। শুধু অজ্ঞাত সংখ্যক বলা হয়েছে। এসব মামলা সমুহে মোট ৩৪১ জনের নাম উল্লেখ এবং অনেক অজ্ঞাত আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব আসামীদের মধ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজি হাবিবুল্লাহ মানিক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিম, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খন্দকার, যুগ্ম সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল, দাউদুল ইসলাম মিনার, সিনিয়র সদস্য আতিকুর রহমান মামুন, ফেনী সরকারী কলেজ ছাত্রদল নেতা জিল্লুর রহমান, জেলা জামায়াতের আমির একেএম শামছুদ্দিনসহ জেলার অন্তত ১৩৫ জনকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে। এছাড়াও গ্রেপ্তার আতঙ্কে বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

জেলা বিএনপি সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, গত দু’সপ্তাহ ধরে ফেনী পুলিশের উর্ধ্বতন কমকর্তারা আমাদের নেতা-কর্মীদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের সাথে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরাও রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগ নেতা বালিগাঁও বাবলুর নেতৃত্বে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ছাত্রদলের অনেক নেতা-কর্মীকে আহত করেছে। এছাড়াও লালপোলে গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার হয়েছে এবং সর্বশেষ মহিপালে বাসে আগুনের ঘটনার সময় সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ থাকায় প্রমানিত হয় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আওয়ামী লীগ ও পুলিশ বাহিনী করে বিএনপির উপর দায় চাপাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচিতে সড়ক-মহাসড়কে নাশকতা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পুলিশ, ছাত্রলীগ-যুবলীগ। তারা সবাই মিলে আগুন সন্ত্রাস করছে, গাড়ি ভাঙচুর করছে। আমরা ১৫ বছর ধরে ফেনীর রাজপথে কোন সন্ত্রাস, হাঙ্গামা করিনি। তারা বলছে আমরা নাশকতা চালাচ্ছি।

তিনি বলেন, পুলিশ এখন দস্যুর ভূমিকা নিয়েছে, তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো হয়ে গেছে। এরা আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন, পেটুয়া বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। হুমকি ধামকি, গ্রেপ্তারের মধ্যে দিয়ে আমাদের আন্দোলনকে দমানো যাবে না। আমরা রাজপথে আছি, রাজপথে থাকবো ইনশা আল্লাহ।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির তৃণমূলের কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, সারা বাংলাদেশ এখন কারাগারে পরিণত হয়েছে, পুলিশ আর কত নেতা-কর্মীকে ধরে কোন কারাগারে রাখবেন। সরকারের রক্ত চক্ষু পুলিশি হয়রানিকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ভয় পায় না, তৃণমূলে নেতা-কর্মীদের ঐক্য আছে যে কোনমূল্যে সব আন্দোলনকে সফল করার জন্য আমরা প্রস্তুতি রয়েছি। তারা বলেন, জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হলেও হাল ধরতে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা প্রয়োজনে নেতায় রূপান্তর হবে। এ সরকারের হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তৃণমূল সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।