বিশেষ প্রতিনিধি->>

ফেনীতে ইয়াসিন মজুমদার সোহাগ নামে সাবেক এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এক নারী কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) তার বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেছেন।

শনিবার (১১ নভেম্বর) সকালে ফেনী সদরের কাজিরবাগ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সোনাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে শ্লীলতাহানির ঘটনাটি ঘটে।

আসামি সোহাগ একই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার এবং পশ্চিম সোনাপুর আমজাদ ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা।

ভুক্তভোগীর এজাহার থেকে জানা গেছে, তিনি গত ১২ বছর ধরে সোনাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইডার (সিএইচসিপি) হিসেবে কাজ করছেন। শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় তিনি তার কর্মস্থলে আসেন।

সকাল নয়টার দিকে ক্লিনিকে আসেন সেটির সাবেক সভাপতি সোহাগ মেম্বার। তিনি ভুক্তভোগীর কাছে এন্টাসিড ট্যাবলেট চান।

ভুক্তভোগী বলেছেন, তিনি আলমারি থেকে ওষুধ নিতে গেলে সোহাগ মেম্বার পেছন দিন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে মুখ চেপে ধরেন। এ সময় ওই কক্ষে আসেন হোসনে আরা বেগম নামে এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী। তিনি চিৎকার করে সাহায্য ডাকতে চাইলে সোহাগ তাকে ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেন। পরে ওই কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

হোসনে আরা চলে গেলে সোহাগ মেম্বার ভুক্তভোগীকে শারীরিকভাবে শ্লীলতাহানি করেন। সুযোগ পেয়ে ভুক্তভোগী চিৎকার শুরু করেন। এ সময় আশপাশের কয়েকজন কক্ষের দিকে আসেন। এ সময় সোহাগ মেম্বার সেখান থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার ব্যাপারে ভুক্তভোগী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।

এ বিষয়ে কথা হলে কমিউনিটি ক্লিনিকের বর্তমান সভাপতি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইলিয়াস আলী জানান, সোহাগ মেম্বারের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে যৌন হেনস্তার অভিযোগটি তিনি শুনেছেন।  

সদর উপজেলার রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (এমওডিসি) ডা. শোয়াল নওশীন নুর চৌধুরী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন একটি ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এমন একটি জনবহুল জায়গায় যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে তবে অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় নারীরা আজ কোথাও নিরাপদ নয়।

কাজিরবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কাজী বুলবুল আহমেদ জানান, এই বিষয়ে ভুক্তভোগী ফেনী মডেল থানা একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ তাদের প্রয়োজনীয় কাজ করবে।

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ রহমান মামলা সম্পর্কে বলেন, তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।