বিশেষ প্রতিনিধি->>

বিএনপির ডাকা দ্বিতীয় দফার ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের দ্বিতীয় দিন ফেনী শহর ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা। তাঁরা যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের বাধায় তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এরপর বিক্ষিপ্তভাবে একাধিক যানবাহন ভাঙচুর করেছেন অবরোধকারী সমর্থকেরা।

পুলিশ, দলীয় সূত্র ও স্থানীয় লোকজন জানান, আজ সোমবার দুপুরের দিকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের সেন্ট্রাল হাইস্কুলের সামনের সড়কে টায়ার পুড়িয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এর আগে সকালে শহরের ইসলামপুর রোডের দলীয় কার্যালয় থেকে ফেনী জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের মূল সড়ক ট্রাংক রোডে ওঠার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে যুবদলের পাঁচ থেকে সাতজন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন নেতারা।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খোন্দকার অভিযোগ করেন, বিএনপিদলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল নিয়ে একটু সামনে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে মিছিলটি অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের ধস্তাধস্তিতে জেলা যুবদলের সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিনসহ পাঁচ থেকে সাতজন নেতা–কর্মী আহত হন।

এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা সকাল ১০টার দিকে শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অবরোধকারী ব্যক্তিরা সরে পড়েন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপাল এলাকায় ভোরে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা।

অবরোধে জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কে সীমিতসংখ্যক সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সাধারণ রিকশা চলাচল করছে। তবে দূরপাল্লার কোনো যাত্রীবাহী বাস চলাচল করেনি। মহাসড়কে কিছু কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক চলতে দেখা যায়।

ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইমরান হোসেন বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে অবরোধকারী ব্যক্তিরা মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ধাওয়া করে। এরপর শহরের তাকিয়া রোডে কয়েকটি ট্রাক ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করেন অবরোধকারী ব্যক্তিরা।

ফেনীর পুলিশ সুপার জাকির হাসান বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। কেউ নাশকতা করতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।