বিশেষ প্রতিনিধি->>

চারলেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাঝে ১২ ফুট প্রশস্ত ডিভাইডার (মিডিয়ান) আছে। এ ডিভাইডারে ফুল ও ঔষধিসহ বিভিন্ন গাছ রোপণ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। যা এরই মধ্যে বড় হয়েছে। এসব গাছ থেকে মহাসড়কের যাত্রীরা পাচ্ছেন বিনোদন ও অক্সিজেন। আর পরিবহন চালকরা পাচ্ছেন গাছের ছায়ায় শীতল সড়ক।

এদিকে ডিভাইডারে লাগানো গাছের ফাঁকে ফাঁকে খালি জায়গায় চাষ হচ্ছে বিভিন্ন জাতের শাক, সবজি ও নানা জাতের ফসল। এ যেন পিচঢালা কালো সড়কে লাল-সবুজের হাসি। মাটির উর্বরতা ভালো হওয়ায় চমৎকার ফলনে কৃষকদের আয়ও বেড়েছে। সাধারণ মানুষ পাচ্ছে তরতাজা শাক সবজি।

দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও আবাদহীন থাকবে না প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণাকে কাজে লাগিয়ে ফেনীর কৃষকরা সড়কের মহাসড়কের ডিভাইডারে চাষাবাদ করছেন। বিষয়টিকে ইতিবাচক দেখছে কৃষি বিভাগ। তাই কৃষকদের সহযোগিতারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সওজ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে ২৭ দশমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পর মোহাম্মদ আলী থেকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের আগে ধুমঘাট ব্রিজ পর্যন্ত ফেনীর মধ্যে পড়েছে।

সরজমিনে দেখা যায়, ফেনী সদর উপজেলা অংশে মহাসড়কের ছনুয়া, লেমুয়া, ফরহাদ নগর, ফাজিলপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে মহাসড়কের ডিভাইডারে সওজের লাগানো গাছের নিছে পরিত্যক্ত জায়গায় স্থানীয় কৃষকরা চাষাবাদ শুরু করেছেন। মরিচ, মুলা, পালং শাক, লাল শাক, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, শিম, ঢ্যাঁড়স, ধনেপাতাসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির চাষাবাদ করছেন তারা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় পিচ ঢালা কালো মহাসড়কের মাঝে যেন লাল-সবুজের মিতালী। এ যেন আরেক সবুজারোণ্য।

দৃশ্যটি মহাসড়কের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। আশপাশের কৃষক ও ভূমিহীন ব্যক্তিরা পরিত্যক্ত এ ডিভাইডারকে উৎপাদনে কাজে লাগিয়ে স্থানীয়দের তরতাজা শাক ও সবজি সরবরাহ করছেন। নিজেদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করে কিছু নগদ টাকাও আয় করছেন।

ফাজিলপুর ইউনিয়নের কৃষক আহমেদ করিম বলেন, সড়কের মাঝে খালি জায়গায় ভরাট করা মাটিগুলো ফসল উৎপাদনের জন্য খুবই উর্বর। তাই আশপাশের কৃষকরা শীতকালীন নানা শাকসবজি উৎপাদন করেছে। এতে একদিকে স্থানীয়রা তরতাজা শাকসবজি পাচ্ছে অন্যদিকে গরিব কৃষকদের আয় রোজগার হচ্ছে। এটি একটি ভালো দিক।

কালিদহ ইউনিয়নের মাইজবাড়িয়া এলাকার কৃষক ছালেহ আহাম্মদ বলেন, রাস্তার পাশেই আমার ঘর। ভিটে ছাড়া আর কোনা জায়গা আমাদের নাই। তাই রাস্তার মাঝখানের খালি জায়গায় দুই বছর শীতকালে চাষাবাদ করি। এ বছর শীতকালীন সবজি মুলা, পালং শাক, লাল শাক, মিষ্টি কুমড়া ও ধনেপাতার চাষ করেছি। এরই মধ্যে কিছু লাল শাক ও মুলা শাক বিক্রি করেছি। নিজের হাতে লাগানো শাকসবজি দিয়ে পরিবারের চাহিদা মিটাচ্ছি। আশপাশের মানুষ সকাল বেলায় এসে আমার থেকে শাক-সবজি কিনেন। নিজেকে উৎপাদনে জড়াতে পেরে ভালো লাগছে। কিছু আয়ও হচ্ছে।

বিষয়টিকে মন্দ মনে করছেন না ফেনী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার। তিনি বলেন, মহাসড়কের ডিভাইডারে গত বছরও কয়েকজন কৃষক চাষাবাদ করে শাক-সবজির চাহিদা পূরণ করেছেন। কিছু আয় রোজগারও হয়েছিল। এবার চাষাবাদের পরিধি বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী দেশের এক ইঞ্চি জায়গাও খালি থাকবে না তার বাস্তবায়নই যেন মহাসড়কের ডিভাইডারে দৃশ্যমান। শাক-সবজি চাষাবাদকারীদের তালিকা করে তাদের কি ধরনের সহযোগিতা করা যায় তা নিয়ে মতামত দিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি।