সোনাগাজী প্রতিনিধি->>

সোনাগাজীতে মোহাম্মদ শাহ আলম নামে এক উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রবাসী পরিবারকে ভয় দেখিয়ে ঘুস গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘুসের টাকা ফেরৎ চেয়ে ও শাস্তি দাবি করে ক্ষতিগ্রস্ত তাছলিমা আক্তার নামে এক নারী রোববার সকালে ফেনী জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ শাহআলম উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, আমিরাবাদ ইউনিয়নের চরসোনাপুর গ্রামের মৃত মাহবুবুল হকের কন্যা তাছলিমা আক্তার তার মা সহ পিতার বাড়িতে বসবাস করছেন। তার দুই ভাই প্রবাসী। এক ভাই স্কলারশীপ নিয়ে লন্ডনে পড়ালেখা করছেন। তার মা রোকেয়া বেগম চরসোনাপুর মৌজার নং ২৯২ সি এস এ ৮৯১ নং খতিয়ানে ২১৯১ ও দাগে তিন শতক ভূমির খরিদ সুত্রে মালিক দখলকার হিসেবে রয়েছেন। যেখানে গাছগাছালি ও খালি জায়গা রয়েছে। উক্ত জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে তার চাচাতো ভাই শাহজাহান সিরাজি ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে (এডিএম কোর্টে) ১৪৫ ধারা মোতাবেক ৫৪২ নং একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সোনাগাজী মডেল থানার ওসি কে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সোনাগাজীর সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে আদেশ দেন। নোটিস পেয়ে তারা বিষয়টি অবগত হন। বিগত প্রায় ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে শান্তিপূর্ণভাবে তারা জায়গাটি ভোগ দখলে রয়েছেন। আমিরাবাদ ইউনিয়নের উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহআলম বিষয়টি তদন্ত করেন।

তদন্ত শেষে তাছলিমা, তার মা ও ভাবীকে ডেকে বলেন, আমি তদন্ত করে এবং কাগজপত্র পর্যালোচনা করে অবগত হয়েছি উক্ত জমির মালিক ও ভোগদখলকার আপনারা। কিন্তু হয়রানির উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষ মামলাটি আনায়ন করেছেন। এটি বাদীর বৃদ্ধ পিতাও আমার কাছে স্বীকার করেছেন। আমি আদালতে সত্য রিপোর্ট লেখে দিলে প্রথম তারিখেই মামলাটি নথিভুক্ত হয়ে যাবে। তবে এসিল্যান্ড ও এডিএম’র খরচের জন্য ২০ হাজার টাকা দিতে হবে।

তারা তার দাবি মোতাবেক টাকা দিতে অস্বীকার করলে, মামলার রায় তাদের বিপক্ষে যাবে বলে জানিয়ে দেন। এছাড়া তাদের চরম ক্ষতি হবে বলে তাদেরকে হুমকিও দেন শাহআলম। এক পর্যায়ে অব্যাহত হুমকিতে তাছলিমা, তার মা ও ভাবী ভীত স্বন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। আমিরাবাদ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও তার পার্শ্ববর্তী বাড়ির মো. মাসুদ আলম এবং তার প্রবাসে থাকা দুই ভাই সহ আরো কয়েকজন লোককে অবগত করে শাহ আলমের অফিসে যান। তার দাবি মোতাবেক ভূমি অফিসের পশ্চিম পাশের কক্ষে গিয়ে তাছলিমা ও তার ভাবী শাহ আলমের হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দেন। এসিল্যান্ড ও এডিএমকে তিনি ম্যানেজ করবেন বলে বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন। পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন শাহআলম প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এসিল্যান্ড এবং এডিএম’র নামে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এমতাবস্থায় তারা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাই শাহ আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি, টাকা ফেরৎ সহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তিনি জেলা প্রশাসক সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

এ ব্যপারে উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, আমি কথা অনুসারে তাদের কাজ করে দিয়েছি। টাকা গ্রহণের ব্যপারে অফিসে বসে কথা বলতে হবে, ফোনে মন্তব্য করা যাবেনা। কোথাও ভুল হলে প্রয়োজনে ঠিক করে দেবো।

সোনাগাজী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসএম অনিক চৌধুরী বলেন, তাছলিমা আক্তারের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পেলে শাহআলমের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।