পরশুরাম প্রতিনিধি->>

নিখোঁজের তিন দিন পর ফেনীর পরশুরাম সীমান্তের উত্তর বাঁশপদুয়া এলাকায় কাঁটাতারের পাশে এক বাংলাদেশির অর্ধগলিত লাশ পড়ে আছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন লাশটি শনাক্ত করেছেন। তবে লাশ উদ্ধার নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত লাশ উদ্ধার করা যায়নি।

পুলিশ বলছে, লাশটি ভারতীয় অংশ পড়ে থাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীর (বিএসএফের) পতাকা বৈঠক ছাড়া লাশ পাওয়া যাবে না।

নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ মেজবাহার (৪৭)। তিনি পরশুরাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর গুথুমা গ্রামের মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি গরুর ব্যবসা করতেন।

স্থানীয় লোকজনের উদ্ধৃতি দিয়ে নিহত মেজবাহারের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, গত রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাঁর স্বামী মেজবাহার উত্তর বাঁশপদুয়া গ্রামের ভারতীয় সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকায় ধান কাটতে যান। এ সময় বিএসএফের সদস্যরা তাঁকে ডাকাডাকি করতে থাকেন। বিএসএফের ডাক শুনে তিনি দ্রুত নিজ এলাকার দিকে চলে আসার চেষ্টা করেন। পরে বিএসএফের সদস্যরা তাঁকে জোর করে ধরে নিয়ে যান। বিষয়টি এলাকার লোকজন বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ি ও পরশুরাম থানার পুলিশকে মৌখিকভাবে জানান।

পরশুরাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) পার্থ প্রতিম দেব বলেন, গত রোববার বিকেলে বিএসএফের সদস্যরা একজন বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করলেও পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় বা বিজিবিকে কোনো ধরনের লিখিতভাবে জানানো হয়নি। লাশটি যে স্থানে রয়েছে, সেটি সীমান্তের শূন্যরেখা হওয়ার কারণে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠক ছাড়া লাশ উদ্ধার করা সম্ভব নয়।

সীমান্তের কাঁটাতারের পাশে অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকার বিষয়ে ফেনীর ৪ বিজিবির অধিনায়ক এ কে এম আরিফুল ইসলামকে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে কল করা হয়। এ বিষয়ে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।