শহর প্রতিনিধি->>

প্রত্যহ যানজটে অতিষ্ঠ ফেনী ফেনীবাসী। শহরের বিভিন্ন সড়কে অফিস সময়কালীন এবং অফিস-পরবর্তী মুহূর্তে দিনের কর্মদিবসে ১-২ ঘণ্টা ছাড়া সার্বক্ষণিক তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অফিস আদালতগামী কর্মজীবী মানুষের শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাফিক জ্যাম এবং গাড়িগুলো একে অপরকে ওভারটেকিং এ যাওয়ার প্রতিযোগিতায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ফেনীর সাধারণ মানুষকে।

সরেজমির ঘুরে দেখা যায়, ফেনীর শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক, দাউদপোল থেকে ট্র্যাংক রোড়, ট্র্যাংক রোড থেকে মিজান রোড়, ফেনী রেলগেট সামনের এবং পেছনে অংশের সড়ক ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এবং পুনরায় ১২টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। আবার বিকাল এবং সন্ধ্যায় একই চিত্র প্রত্যক্ষ করা যায়।

জানা যায়, প্রতিদিন ফেনীতে নিবন্ধিত প্রায় ৪ শতাধিক রিকশা, শতাধিক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ২ শতাধিক ব্যাটারিচালিত গাড়ি এবং ৬০০ শর অধিক সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতে ইসলামপুর সড়কে বড় গাড়ি প্রবেশ এবং প্রস্থানে কৃত্রিম জ্যামের সৃষ্টি করে। এছাড়া রাস্তায় গাড়ি চালানো কোনো ধরনের নিয়মশৃঙ্খলা না থাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে অনেক সিএনজি এবং মোটরসাইকেল চলাচল করে। এছাড়া শপিংমল এবং বড় বড় দোকানপাটের নিচে গাড়ি রাখার পার্কিংয়ের সুযোগ না থাকায় প্রাইভেট কার এবং ট্রাক মিনি ট্রাকগুলো রাস্তায় পার্কিং বাধ্য হয়। এতে ট্রাফিক জ্যাম আরও বেড়ে যায়।

একইভাবে সদর হাসপাতাল মোড়, মিজান রোড় প্রবেশের মূল দুই ফটক, রেলগেটের ট্রেনের রাস্তার দুই পাশ, মহীপাল চত্বর প্রবৃত্তি স্থানগুলোয় প্রত্যক্ষ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে ফেনীর সাধারণ মানুষ মনে করেন শহীদ শহীদুল্লা কায়সার রোডের বিকল্প সড়ক হিসেবে ফেনীর ভিআইপি রোড় খ্যাত পাগলা মিয়া সড়ক ওরফে হাজারী রোড সংস্করণ করা হলে এ রাস্তা দিয়ে কিছু সংখ্যক যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকত।

এ বিষয়ে ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শহরকে সুশৃঙ্খল এবং যানজট মুক্ত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তিনি। তবে ফেনীর মানুষের সচেতনতা এবং বিকল্প সড়ক হিসেবে হাজারী রোড সংস্করণ করলে এ ধরনের যানজটের অনেকটাই ভোগান্তি থেকে বাঁচবে সাধারণ মানুষ।