সোনাগাজী প্রতিনিধি->>

সোনাগাজীতে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে এক প্রতিবন্ধী পরিবারকে পানের সাথে চিবিয়ে খাওয়ার হুমকি দিলেন আব্বাস উদ্দিন স্বপন নামে এক আ.লীগ নেতা। তবে তিনি আ.লীগের পদপদবীতে না থাকলেও স্থানীয়ভাবে আ.লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। প্রতিবন্ধী মো. আবদুল্লাহ পারভেজ সোনাগাজী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের ফকির আহম্মেদের ছেলে।

রোববার দুপুরে সোনাগাজী পৌর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবন্ধী মো. আবদুল্লাহ পারভেজ, তার পিতা ফকির আহম্মেদ, বোন হোসনেআরা বেগম ও মোহছেনা আক্তার এমন অভিযোগ করেন।

তারা বলেন, সোনাগাজী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের চরগণেশ গ্রামের বক্সআলী ভূঞা বাড়ির জহির উদ্দিন কেনুর ছেলে আব্বাস উদ্দিন স্বপন গত কয়েক মাস পূর্বে প্রতিবন্ধী মো. পারভেজের নিকট ১৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরবর্তীতে ৯ লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় ১৯৬৪ সালে তার দাদার বিক্রিত ১৮শতক জমি জবরদখলের হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে প্রতিবন্ধী মো. আবদুল্লাহ পারভেজ ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ১৫ আগস্ট ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারামতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সোনাগাজী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে তদন্ত প্রতিবেদন ও সোনাগাজী মডেল থানার ওসিকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার আদেশ দেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভূমি সহকারি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থলে তদন্ত যান। সেখানে স্বপন ১৫-২০জন সহযোগি সন্ত্রাসী নিয়ে বাদী প্রতিবন্ধী আবদুল্লাহ পারভেজকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। এক পর্যায়ে তারা সোনাগাজী থানা পুলিশের কাছে মুঠোফোনে ফোন করে ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরবর্তীতে স্বপন তাদের বাড়িতে গিয়ে পারভেজ, তার পিতা ফকির আহম্মেদ ও বোন হোসনেআরাকে পানের সাথে ছিবিয়ে খাওয়ার হুমকি দেন। বর্তমানে তারা জীবনের নিরপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবী করেন।

স্বপন দাবীকৃত চাঁদা না পেয়ে তাদের যে জমি জবরখলের পাঁয়তারা করছেন সে জমি ১৯৮০সালে প্রতিন্ধী পারভেজের পিতা ফকির আহম্মেদ ছাপ কবলামূলে ক্রয় করেন। সে থেকে দিয়ারা ও বিএস জরিপও ফকির আহম্মেদের নামে খতিয়ান প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে। বর্তমানে ফকির আহম্মেদের নামে জমাখারিজ খতিয়ানও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু স্বপন নিজেকে স্থানীয় কথিত আ.লীগ নেতা দাবি করে প্রতিবন্ধী পরিবারটির কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে এখন তাদের মালিকীয় দখলীয় জমি জবরদখলের পাঁয়তারা করছেন স্বপন। তাতে ব্যর্থ হয়ে মামলা করায় এখন পরিবারটিকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এজন্য প্রতিবন্ধী পরিবারটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, র‍্যাব ও পুলিশের কাছে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন।