নিজস্ব প্রতিনিধি->>

ফেনী শহরের হাজারী সড়কের বেহাল দশা। খানাখন্দে ভরা সড়কটি দিয়ে গাড়ি চলে হেলেদুলে। মালিকানা নিয়ে টানাপোড়েনে গত ১০ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে সড়কটি। এতে চরম ভোগান্তিতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বাসিন্দারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সড়কটি পাকা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। এরপর সড়কটি ফেনী পৌরসভাকে হস্তান্তর করা হয়। সর্বশেষ ২০১২ সালে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের সংস্কার কাজ করে পৌরসভা। এরপর গত ১০ বছরে আর কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। পৌরসভার উদ্যোগে কয়েকবার খাদগুলো ইট-বালু দিয়ে ভরাট করা হলেও কোনো লাভ হয়নি। বর্তমানে সড়কটির অবস্থা জরাজীর্ণ। এ বছরের শুরুতে সড়ক ও জনপথ বিভাগে সড়কটি হস্তান্তরের জন্য চিঠি দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। মালিকানা নিয়ে নানা টানাপোড়েনে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ এখন ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। সড়কজুড়ে খাদের কারণে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপাল ও ফেনী-কুমিল্লা সড়কের সংযোগ স্থাপন করেছে এ সড়ক, যা ফেনীতে প্রবেশের অন্যতম মাধ্যম। ফেনীর সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন হাজারীর উদ্যোগে ২০০০ সালে মাটি দিয়ে সড়কটি তৈরি করা হয়। এর পর থেকে এটি পরিচিত হয় ‘হাজারী সড়ক’ নামে। জেলার প্রশাসনিক কার্যালয়গুলোও পাশেই অবস্থিত হওয়ায় শহরের অন্য সড়কের তুলনায় এর গুরুত্ব বেশি। জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন বলে এটি পরিচিতি পায় ‘ভিআইপি রোড’ নামেও। বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে দুরবস্থার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সড়কের আশপাশের দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়রা জানায়, সড়কজুড়ে অসংখ্য গর্ত। বৃষ্টির পানি জমলে একেকটি পরিণত হয় ছোট ডোবায়। আর শুকনা মৌসুমে ধুলার অত্যাচার তো আছেই। ১ হাজার ৭০০ মিটারের এ সড়ক নিয়ে নাজেহাল বাসিন্দারা। প্রায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে সংস্কার নেই।

কথা হয় সড়কের পাশের দোকানদার সফিউল হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, পৌর এলাকার সব সড়কের উন্নয়ন হলেও হয় না কেবল এ সড়কের।

ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, বৃষ্টি হলে সড়কটি এক হাঁটু পানিতে ডুবে থাকে। কেউ এক বস্তা চাল যে বাড়িতে নেবে, সে উপায়ও থাকে না। এতে ব্যবসার লোকসান গুনতে হয়। ১০ বছর ধরে এখানে আছি। কোনো উন্নয়ন কাজ দেখিনি। ময়লা পানি মাড়িয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হচ্ছে।

আবদুল খালেক নামে এক রিকশাচালক বলেন, হাজারী রোডে কেউ যেতে চাইলে আমরা যাত্রী নিই না। ৫০ টাকা ভাড়া নিয়ে গেলে রিকশার সিক ভেঙে ১০০ টাকা খরচ হয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী বিনয় পাল বলেন, কিছুদিন আগে সড়কটি আমাদের কাছে হস্তান্তরের জন্য অনুরোধ করেছে পৌরসভা। সে অনুযায়ী প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখনো পাস হয়নি। এটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাভুক্ত হলে সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হবে।

ফেনীর জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, হাজারী সড়কের সংস্কার হলে ফেনীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হবে এবং জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘব হবে। জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় এ সড়কের বিষয়ে অনেকবার আলোচনা হয়েছে। রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হলে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।