নিজস্ব প্রতিনিধি->>

সোনাগাজীতে ক্লুলেস হত্যার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মো. রুবেল (৩৫) ও আবুদুর রহমান (৪৩) নামে দুই যুবককে লক্ষ্মীপুর থেকে সোমবার বিকালে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা সম্পর্কে শালা-দুলা ভাই। তাদের কাছ থেকে লুন্ঠিত ৩৬ হাজার টাকা এবং ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট মো. সিরাজ উদ্দিনের আদালতে ঘটনায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি মো. রুবেল। মঙ্গবার বিকালে ফেনীর পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া ফারজানা এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

মো. রুবেল লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার উত্তর চরমনি মোহন গ্রামের আবদুল মান্নান এবং আবদুর রহমান একই গ্রামের ফজল মাঝির ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে সহকারি পুলিশ সুপার (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) সার্কেল মাশকুর রহমান, সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ খালেদ হোসেন দাইয়্যান, পরিদর্শক (তদন্ত) এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানান, সোনাগাজীর মতিগঞ্জ বাজারের ডাল ব্যবসায়ী ও ছাড়াইতকান্দি গ্রামের বড় সর্দার বাড়ির বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন (৬০) গত ৮ সেপ্টেম্বর সকালে ইসলামি ব্যাংক সোনাগাজী শাখা থেকে দুই লাখ টাকা তুলে দোকানে ফিরছিলেন। তাকে কৌশলে অজ্ঞান পার্টির তিন সদস্য পৌর শহরের ভাই ভাই হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে সিঙ্গারা-চমুচার সাথে চেতনানাশক খাইয়ে তার সাথে থাকা দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তারা পালিয়ে যায়। ব্যবসায়ীকে অচেতন অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত ১০টা ২০মিনিটের দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে পারিবারিক কবরাস্থানে দাফন করা হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ব্যবসায়ীর ছেলে মো.গোলাম মাওলা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সিসিটিভির ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনায় জড়িত তিনজনের মধ্যে পুলিশ উল্লেখিত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। অপর আসামি পলাতক রয়েছে।