বিশেষ প্রতিবেদক->>

ফেসবুকে পোস্টে ২২ বছর পর বাবার পরিবারকে খুঁজে পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি তরুণী। এত আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন পাকিস্তানি তরুণী Tahreem Rida তাহরিম রিদা ওরফে জারা কাশেম ।

NEED HELP!!!!!! Asalam u alikum every one. I here to find my father’s family. My father passed in 2004 i was around 4 years he married my mom here in Pakistan. He was from Naokhali, Bangladesh His name was Muhammad Qasim My grand father’s name was Tafazul Haq who probably passed in my father childhood. I don’t know much or nearly anything about my father’s family. This picture is of my uncle (elder brother of my father)Abu Sadiq. If anyone know anything regarding this family it would be a great joy to meet my family that i have never met.

‘সাহায্য দরকার!!!!!! আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। আমি ফেসবুকের গ্রুপে আমার বাবার পরিবারকে খুঁজে পেতে এসেছি। আমার বাবা পাকিস্তান এসে আমার মাকে বিয়ে করেছিলেন। ২০০৪ সালে পাকিস্তানে আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে। তখন আমার বয়স ছিলো ৪ বছর। তিনি বাংলাদেশের নোয়াখালী (ফেনী) থেকে এসেছিলেন। আমার বার নাম মুহাম্মদ কাশেম। আমার দাদার নাম তফাজুল হোসেন। আমার বাবা ছোট থাকা অবস্থায় আমার দাদার মৃত্যু হয়েছিলো। আমি আমার বাবার পরিবার সম্পর্কে খুব বেশি কিছুই জানি না।’ ছবিটি আমার জেঠার (আমার বাবার বড় ভাই) আবু সাদিকের। যদি কেউ এই পরিবার সম্পর্কে কিছু জানেন তবে আমার পরিবারের সাথে দেখা করা খুব আনন্দের হবে যা আমি কখনও দেখিনি।’

গত ৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে ফেসবুকে ব্যক্তিগত আইডি থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি তরুণী Tahreem Rida তাহরিম রিদা (জারা কাশেম) ‘আমাদের ফেনী’ গ্রুপ এ একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাস দেওয়ার ২৩ মিনিটের মধ্যে বাবার পরিবারের সঙ্গে পরিচয় হয় পাকিস্তানি তরুণী তাহরিম রিদার। তার বাবার পৈত্রিক বাড়ি ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হাসান গনিপুর গ্রামের করু মিয়ার বাড়ি।

তাহরিম রিদা (জারা কাশেম) এর ফুফাতো ভাই (আবুল কাশেমের ভাগিনা) মহিউদ্দিন টিপু (৫৮) বলেন, যুদ্ধের পূর্বে ৬০’র দশকে আমার মামা আবুল কাশেম ৭/৮ বছর বয়সে গ্রামের কিছু স্বজনদের সাথে পাকিস্তান বেড়াতে যায়। এর পর তিনি হারিয়ে যায়। পরে ১৯৮৩/৮৪ সালে বাংলাদেশে তার বাড়িতে (আমার বাবা মো. সালেহ আহমেদ এর কাছে) চিঠি পাঠান। চিঠি পেয়ে আমার সেজ ভাই আবুল কালাম আজাদ চিঠির উত্তর পাঠান। ১৯৮৭/৮৮ সালের দিকে আমার বড় মামা আবু সাদেক পাকিস্তানের করাচিতে যেয়ে ছেটভাইকে আবুল কাশেমকে দেখে আসেন এবং একটি পারিবারিক ছবি দিয়ে আসেন। তখন থেকে আমার সেঝ ভাই আজাদ ছোটমামার সাথে চিঠি ও টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখেন। ২০০৪ সালে পাকিস্তানের করাচি থেকে ছোট মামা আবুল কাশেমের পরিবার আমার সেঝ ভাই আজাদকে জানায়, মামা আবুল কাশেম মারা গেছেন। এর পর থেকে আমার মামার পরিবারের সাথে আমাদের আর কখনও যোগাযোগ হয়নি।

মহিউদ্দিন টিপু আরও বলেন, তাহরিম রিদা (জারা কাশেম) গত বৃহস্পতিবার ফেসবুকে যে পোস্টটি করেছিলো সেখানে আমার সেজ ভাই আজাদের দোকানের ঠিকানা সম্বলিত খাম ও বড় মামার পরিবারের ছবি দিয়েছিলো। ওই পোস্টের সূত্র ধরে ফেসবুক গ্রুপের সদস্যরা আমার সেঝ ভাই আজাদ ভাইয়ের ছেলে আদিব এর সাথে যোগাযোগ করে। পরে আদিব তাহরিম রিদা (জারা কাশেম) সাথে কথা বলে আমাকে জানায় এবং আমার ফোন নম্বর জারাকে দেয়।

মহিউদ্দিন টিপু আরও বলেন, আমি জারার সাথে কথা বলে জানতে পারি জারারা তিন বোন ও এক ভাই। জারা সবার ছোট। বড় দু’বোনের বিয়ে হয়েছে। জারা ও তার বড় ভাই মা এর সাথে থাকে। এসময় তারা তাদের পরিবারের ছবি পাঠিয়েছে। আমরাও আমাদের পরিবারের ছবি পাঠিয়েছি। মুলত জারা জানতে চেয়েছিলো তারা বাবার পরিবারে কেউ বেঁচে আছে কিনা, থাকলে তাদের সাথে পরিচয় হতে চেয়েছিলো। এখন থেকে জারার পরিবারের সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হবে।

বাবার বাড়ির স্বজনদের পেয়ে তাহরিম রিদা (জারা কাশেম) ফেসবুকে লিখেন, ‘২২ বছর ধরে আমি আমার বাবার পরিবারকে খুঁজছিলাম। ফেনীর মানুষকে কী বলে ধন্যবাদ দেবো তা বলার ভাষা আমার নেই। আমার বাবার পরিবারকে যারা খুঁজে পেতে সহায়তা করেছে সবাইকে আল্লাহ নেক হায়াত দান করুক। খুব শিগগিরই আমার বাবার পরিবারের সঙ্গে আমাদের দেখা হবে।’

‘আমাদের ফেনী’ গ্রুপ এর অ্যাডমিন ইমদাদুল হক বলেন, তাহরিম রিদার সেন্ড করা ইংরেজি পোস্টটি ট্রান্সলেশন করে বাংলায় পোস্ট দেয় অ্যাডমিন প্যানেল। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিসদের মাধ্যমে তাহরিম রিদার বাবার পরিবারের কাছে বার্তা পৌঁছে যায়। উভয় পরিবার একে অপরকে এত বছর পর পেয়ে আবেগে আপ্লুত।

‘আমাদের ফেনী’ গ্রুপ এর অপর অ্যাডমিন শাখাওয়াত হোসেন রাজীব জানান, তাহমিদ রিদা এভাবে তার পরিবার খুঁজে পাবে কখনো কল্পনা করেননি। ফেসবুক গ্রুপের কারণে প্রায় ২২ বছর পর বাবার খোঁজ পেয়ে তার বহুদিনের কষ্ট দূর হয়েছে।